হোম > সারা দেশ > কক্সবাজার

পাহাড়ে ৩ মরদেহের খবরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মিলেছে গুলি, খালি খোসা ও এনআইডি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়ে মানব পাচারকারীর আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার জিনিসপত্র। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবরে যৌথ বাহিনী পরিচালনা করেছে। আজ শনিবার সকাল থেকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালীর পাহাড়ে চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত আস্তানা থেকে ছয় রাউন্ড গুলি, গুলির খালি খোসা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কিছু রান্নাবান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ওই পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী সকালে অভিযানে নামে। সকাল সাড়ে ৭টায় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি, এপিবিএন ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

অভিযানে থাকা হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, রঙ্গীখালী ও লেদা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পেছনের গহিন পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান ও তল্লাশি শুরু হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালানো হলেও কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় মানবপাচারকারীদের গোপন বন্দিশালায় অভিযান চালিয়ে ৫৬ জনকে উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। এ সময় চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়।

অভিযান চলাকালে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় গ্রামের বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

এ দিকে উদ্ধার হওয়া ৫৬ জনকে শুক্রবার রাতে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে থানা-পুলিশ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা এবং ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

মানব পাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার ভুক্তভোগীরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছিল।

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীর আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার জিনিসপত্র। ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’ মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর ধরে টেকনাফের সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করে মানব পাচারকারীচক্র নানা প্রলোভন ফেলে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি বাসিন্দাদের মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড পাচার করছে। পাচারকারী চক্র টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা বানিয়ে টোপে পড়া লোকজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছে। প্রায় সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে পাচারের শিকার লোকজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেও এই তৎপরতা থামানো যাচ্ছে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সাগর শান্ত হয়ে আসলে মাছ ধরার ট্রলারে করে পাচারের ঘটনা ঘটছে।

গৃহবধূকে হত্যার পর আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচারের অভিযোগ, স্বামী আটক

পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে, ৩ মরদেহ পড়ে থাকার খবর

৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিন গেল মৌসুমের প্রথম জাহাজ

ইনানীতে ভাড়া বাসা থেকে সি পার্লের স্পা কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

টেকনাফে ইয়াবার চালান লুটের জেরে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা, আহত ২

সেন্ট মার্টিন নৌরুটে ৩ জাহাজের অনুমোদন, কক্সবাজার থেকে চলাচল শুরু কাল

টেকনাফে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু, আহত ৫

এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ কমবে চট্টগ্রামে

ইনানীতে গ্যাসের আগুনে থার্মোজেনিক, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পরে সিদ্ধান্ত: পেট্রোবাংলা

সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলবে কবে, জানা গেল যা