কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চারজন স্কুলছাত্রকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরাজপুর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয় বলে পরিবারের দাবি। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অপহৃত শিক্ষার্থীরা হলেন শাহারিয়ার কবির সোহাগ (১৪), মোহাম্মদ শহীদ হোসেন (১৪), মোহাম্মদ মাহিম (১৩) ও ইসাদুল হোছাইন ছামিম (১৫)। তারা সবাই কাকারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শহীদ হোসেন দশম শ্রেণির এবং বাকি তিনজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
অপহরণের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর বাবা মোসলেম উদ্দিন, সাবের আহমেদ, আব্দুল হামিদ ও মোহাম্মদ আবছার চকরিয়া থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং গ্রামের মোহাম্মদ ইউসুফ ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে চার শিক্ষার্থীকে স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকাল ৮টার দিকে তারা শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ডেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, পরে অজ্ঞাত স্থান থেকে অপহরণকারীরা ফোন করে শিক্ষার্থীদের অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
অপহৃত মোহাম্মদ মাহিমের বাবা সাবের আহমেদ বলেন, “প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের সন্তানদের অপহরণ করা হয়েছে। এখন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চক্রের এক সদস্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়েছে। আমাদের সন্তানদের ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তারা এখনো জীবিত আছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, অপহরণকারীদের আস্তানায় লামা উপজেলার আরও দুজন যুবক অবস্থান করছেন।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, “চারজন স্কুলছাত্র অপহরণের অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।