টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কমেনি পর্যটকদের উচ্ছ্বাস। আজ শুক্রবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক সৈকতে ভিড় করেছেন। তবে উত্তাল সাগরে গোসলে না নামতে বারবার সতর্ক করছেন লাইফগার্ড ও বিচের কর্মীরা।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার উপকূল উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রবন্দরে এখনো ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণের পর আজ কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আজ দুপুরে সুগন্ধা ও লাবণী সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ১০ হাজার পর্যটক সৈকতে অবস্থান করছেন। কেউ উত্তাল ঢেউয়ে গোসল করছেন, কেউ বালুচরে বসে বা চেয়ার-ছাতার নিচে সাগরের রুদ্ররূপ উপভোগ করছেন। অনেকেই বিচবাইক, ঘোড়ায় চড়া ও দ্রুতগতির জলযানে ভ্রমণেও অংশ নেন।
তবে দুর্যোগের প্রভাব এখনো কাটেনি। গত চার দিন ধরে রেলপথে পানি ওঠায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলও কমে এসেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে ঢলের পানিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এসব কারণে অনেক পর্যটক হোটেল ও রিসোর্টের বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে কয়েকটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সভা ও সম্মেলনের কারণে কয়েক হাজার অতিথি বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।
সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতের ভেজা বালুতে চিত্রকর্মে মেতে উঠেছে সাদমান ও আহনাফ নামের দুই শিশু। দুই সন্তানের এই আনন্দঘন পরিবেশ ক্যামেরাবন্দী করছেন মা সুলতানা শিউলী চৌধুরী। তাঁর পরিবার দুদিন আগে সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছে। তিনি বলেন, ‘শীত মৌসুমে কয়েকবার কক্সবাজার আসা হয়েছে। এবার বর্ষায় এসে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পড়েছি।’ উত্তাল সাগরের গর্জন ও ঢেউ আছড়ে পড়ার দৃশ্য বাচ্চারা বেশ উপভোগ করছে বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া আল নাহিয়ান ও সৌরভ হোসেন বলেন, বর্ষায় কক্সবাজারের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। এ সময় হোটেলভাড়াও তুলনামূলক কম থাকে।
এদিকে উত্তাল সাগরে গোসলে না নামতে পর্যটকদের নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। সি সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, অনেক পর্যটক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পানিতে নামলেও তাঁদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
জেলা প্রশাসনের সৈকতকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতে লাইফগার্ড ও সৈকতকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।