কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন (৪৮) আজ বুধবার বিকেলে বড়বাজারে সবজি কেনার সময় দোকানদারের সঙ্গে দর-কষাকষি করছিলেন। দোকানদার বিরক্ত হয়ে তাঁকে অন্য দোকানে গিয়ে দাম যাচাই করার পরামর্শ দেন।
বেলাল উদ্দিন বলেন, ৩০ টাকার এক কেজি ঝিঙে ৬০ টাকা ও প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকা চাচ্ছেন দোকানদারেরা। এ ছাড়া করলা, ঢ্যাঁড়স, পটোল, শিমসহ সব ধরনের সবজি দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুদল করিম বলেন, ‘দাম তো আমরা বাড়াইনি। কক্সবাজার ও আশপাশের জেলায় ভয়াবহ বন্যায় সব খেতখামার নষ্ট হয়ে গেছে। এখন দ্বিগুণ দামেও সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।’ দুই-তিন ধরে তিনি ক্রেতাদের কথার জবাব দিতে দিতে হয়রান হয়ে পড়েছেন বলে জানান। শুধু আবদুল করিম নন, সবজি বেচার সময় ক্রেতাদের এ ধরনের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আজ বুধবার কক্সবাজার শহরের কালুর দোকান ও বাহারছড়া বাজারেও সবজির দ্বিগুণ দামের চিত্র দেখা যায়।
৪ থেকে ১২ জুলাই টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে সৃষ্ট বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। খেতখামার তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ৭১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে পেকুয়া উপজেলায়। মাতামুহুরী উপজেলার ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ার ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ার ৬৫ শতাংশ, মহেশখালীর ৫০ শতাংশ ও রামুর ৩৫ শতাংশ প্লাবিত হয়।
চকরিয়া পৌরসভার আমানপাড়ার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবারের বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ কত হবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারণ, খেতের বীজতলা একদম পচে গেছে। চার জাতের সবজির আবাদ করেছিলাম। এখন কিছু সবজির চারা পচে গেছে, কিছু ভালো আছে।’
কাকারা মিনি বাজারের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর চরে ছয় জাতের সবজির চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে আমন, আউশ ও সবজির ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন।
বন্যার পানিতে জেলার ১০ উপজেলায় ১০ হাজার ৪০১ একর জমির ফসল ডুবে অন্তত ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক। তিনি বলেন, আউশের ৬ হাজার ৪৭২ একর, বীজতলা ৯১৪ একর, শাকসবজি ২ হাজার ৩৫৯ একর এবং শতাধিক একর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তাঁদের বীজ, সার ও প্রণোদনা সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।