ভারত থেকে জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় আমদানি করা নিম্নমানের চালের একটি চালান গছানোর চেষ্টা চলছে। তবে ধরা পড়ার পর বন্দর থেকে খাদ্য বিভাগ চাল খালাস বন্ধ করে দিয়েছে। আমদানি করা এই নিম্নমানের কিছু চাল ইতিমধ্যে দেশে বিভিন্ন গুদামে চলে গেছে। দেশের বিভিন্ন গুদামের সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি) ও লোকাল স্টোরেজ ডিপোতে (এলএসডি) পাঠানোর পরই চাল নিম্নমানের বিষয়টি শনাক্ত হয়।
খাদ্য বিভাগ জানায়, জিটুজি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় ২১ জুলাই সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। পরের দিন ভারত থেকে আমদানি করা এই চালের চালান থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় এসব চাল ‘খাবার উপযোগী’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিলের পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এর পর শুরু হয় চাল খালাস।
জানা গেছে, ২৪ ও ২৫ জুলাই দুই দিন চাল খালাস চলে। এসব চাল ঢাকার তেজগাঁও সিএসডি, চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডি ও দেওয়ানহাট সিএসডিতে পাঠানো হয়। ঢাকার তেজগাঁও সিএসডিতে ২ হাজার টন, হালিশহর সিএসডিতে কয়েক শ টন ও দেওয়ান হাট সিএসডিতে কয়েক শ টন পাঠানো হয়। ঢাকার তেজগাঁও ও চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডির কর্মকর্তারা এসব চাল গ্রহণ করতে গিয়ে দেখেন-আমদানিকৃত এসব চাল অত্যন্ত নিম্নমানের ও অনেকটা খাবার অনুপযোগী। তাঁরা বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি চাল নিম্নমানের হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদারও পরিবহন বন্ধ রাখেন।
হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের (সিএসডি) ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের গুদামে নিম্নমানের চাল আসার পর আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাই। বন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রেখেছে খাদ্য বিভাগ।’
‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজে কিছু নিম্মমানের চাল আসার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ কারণে আমরা খালাস বন্ধ রেখেছি। জাহাজে আমাদের টিম (খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা) গিয়ে কাজ করছে। আমরা বিধিবহির্ভূত কোনো নিম্নমানের চাল গ্রহণ করব না।’ তিনি জানান, সটিং করে আমরা ভালো চালগুলো গ্রহণ করব।
অভিযোগ রয়েছে, শিপিং এজেন্টসহ দুর্নীতিবাজ একটি চক্র কৌশলে এসব নিম্নমানের এবং পচা চাল আমদানি করার পর সরকারকে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অনিয়মের পেছনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘মাফিয়াচক্র’ জড়িত। এসব সিদ্ধ চাল সরবরাহ করেছে ভারতীয় ‘অ্যাগ্রো কর্পস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই চাল আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় শিপিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে সেভেন সী’স শিপিং লাইন নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
সেভেন সী’স শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর কিছু লালচে চাল আসার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মান খারাপ চালগুলো আলাদা করে ভালোগুলো খালাস করা হবে। তবে খারাপ চাল গছানো হবে না।’