চট্টগ্রামের আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)। কোরবানির হাটে তোলার আগেই গরু আক্রান্ত হওয়ায় চরম আতঙ্কে ১১টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা।
খামারিদের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করিয়েও অনেক গরু বাঁচানো যাচ্ছে না। এতে ঈদকেন্দ্রিক পশু ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বারশত ইউনিয়নের পারকি এলাকার খামারি নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘আমার চারটি গরুর মধ্যে দুটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে চিকিৎসা করাচ্ছি। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছি।’
আনোয়ারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘লাম্পি স্কিন রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে গরুর জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং গায়ে গুটি দেখা দেয়। সচেতনতা ও পরিচর্যার মাধ্যমেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আক্রান্ত পশুকে অবশ্যই আলাদা রাখতে হবে এবং খামারের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’
সমরঞ্জন বড়ুয়া আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে এই রোগের ভ্যাকসিন সীমিত। তবে বেসরকারিভাবে ভ্যাকসিন পাওয়া যায় ২ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে পুরো উপজেলায় শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত গরুকে আলাদা করে মশারির ভেতরে রাখতে হবে, যাতে অন্য গরু আক্রান্ত না হয়। সেই সঙ্গে অন্য কোথাও চিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে খামারি ও ব্যবসায়ীদের।’