চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার পলাতক আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী ও বায়োজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
সর্বশেষ গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন মো. মিজান (৫৩) ও মো. মামুন (৩৮)। তাঁদের মধ্যে মিজান চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলে এবং মামুন সন্দ্বীপ উপজেলার কালাভানিয়া এলাকার বোরহান উদ্দিনের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার মিজান র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার ১৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এবং মামুন সন্দেহভাজন আসামি। তাঁদের র্যাব সদস্যরা থানায় হস্তান্তর করেছেন। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার দুই আসামি নগরীর খুলশী ও বায়োজিদ বোস্তামীতে অবস্থান করছে বলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা নিশ্চিত হন। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে মিজান ও মামনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকালে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ওসি মাহিনুল ইসলাম জানান, ১৯ জানুয়ারি বিকেলে র্যাব-৭-এর একটি দল মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে থানা-পুলিশের সহযোগিতায় আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছেন। বাকি তিন র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।
ওসি মাহিনুল ইসলাম আরও জানান, হামলার ঘটনার দিন পুলিশ নুরুল ইসলাম মনা নামের একজনকে আহতাবস্থায় গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার র্যাবের এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় মো. ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে জাহিদ ও ইউনুস মামলার এজাহারনামীয় আসামি। আরিফ তদন্তে পাওয়া আসামি।
এরপর গত শুক্রবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের তৃণমূল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কালা বাচ্চু ওরফে কালু নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় র্যাব অভিযান চালিয়ে আলীরাজ হাসান ওরফে সাগর (২৮) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জঙ্গল সলিমপুর এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে।