লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরে ঢুকে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে নিহত চারজনের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরুপ পাল বলেন, ‘এখনো পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত শুরু করা যায়নি। তবে দুপুরের মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।’
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুর রাশেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুতই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবক শাহীনুর বেগম (৪০) ও তাঁর তিন মেয়ে—সায়মা আক্তার (১৮), ইকরা আক্তার এবং শিফা আক্তারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর শিফা আক্তার মারা যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইকরা আক্তারও মারা যান।
ঘাতক অন্তর মজুমদারকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে তিনিও মারা যান। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।