চট্টগ্রামের দুটি আসনে বিজয়ের পর পরাজিত জামায়াত প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁরা ফুল দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নগরের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং কুশল বিনিময় করেন। ফজলুল হক মেট্রোপলিটন হাসপাতালের অন্যতম মালিক।
এদিকে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহও একই দিনে নগরের নাসিরাবাদ হাউসিং সোসাইটিতে অবস্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছেরের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে ভোট ও রাজনীতির মাঠে। কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই এক দেশের মানুষ। সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ কে এম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮০৭ ভোট।
ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, চট্টগ্রাম আদালত, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসনটি জেলার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। প্রচলিত রয়েছে, এই আসনে যে দল জয়ী হয়, তারা সরকার গঠন করে এবং এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এরশাদ উল্লাহ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।
মো. আবু নাছের ও এরশাদ উল্লাহর সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় হয়। এ সময় এলাকার উন্নয়ন ইস্যু, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং জনগণের কল্যাণে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। আলোচনায় কালুরঘাট সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।