চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। এতে বন্দরে সব ধরনের আমদানি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে লাগাতার অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বলেন, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বন্দরের শ্রমিকরা স্বতস্ফুতভাবে এই লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে বন্দরের মূল তিনটি টার্মিনাল থেকে কোনো জাহাজ ছেড়ে যায়নি। কোনো জাহাজও জেটিতে ভেড়ানো যায়নি। আজ বুধবার সকালে জোয়ার শুরুর পর দুপুর পর্যন্ত কোনো জাহাজ আনা-নেওয়া হয়নি। জেটিতে কনটেইনারবাহী ১০টি জাহাজ আটকে আছে। কনটেইনারবিহীন পণ্যবাহী তিনটি জাহাজও আটকা বলে জানা গেছে।
জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো যেমন বন্ধ আছে, তেমনি রপ্তানি পণ্যবাহী কোনো কনটেইনার বন্দরে ঢোকেনি। আমদানি পণ্যও খালাস হয়নি বন্দর চত্বর থেকে।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী ১৫ জন শ্রমিককে নৌপরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে বদলি আদেশে ৮ জনকে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে এবং ৭ জনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়। এতে আরো আন্দোলনের মাত্র আরো একধাপ বাড়িয়ে দেন শ্রমিকেরা।
এর মাঝে শ্রমিকেরা শনিবার থেকে গত তিন দিন ধরে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্ম বিরতির পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে এবং আজ বুধবার থেকে লাগাতার অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। এতে বন্দরে সবধরনের আমদানি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ডিপোগুলোতে রপ্তানিমুখী কন্টেইনারের চাপ বাড়ছে। বন্দরেও কন্টেনার ও জাহাজের জট বাড়তেছে। এমনিতে মাসখানেক ধরে লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে বন্দরের বহিনোঙ্গরে জাহাজজট লেগে আছে।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন সিকদার বলেন, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ২১টি ডিপোতে ৯৫০০ রপ্তানি কন্টেনার জমা হয়েছে। আজ আরো বেশী কন্টেনার জমা হয়েছে।