বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং আমানত ফেরত দেওয়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা (রোডম্যাপ) ঘোষণার দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের আমানতকারীরা। তাঁরা দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আজ বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’-এর ব্যানারে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। পরে তাঁরা বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে আলকরণ মোড়ে জিপিওর বিপরীতে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় এক ঘণ্টার এ কর্মসূচিতে আমানত ফেরত, ‘হেয়ার কাট’ প্রস্তাব বাতিল ও স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমানতকারীদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন, যা তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়েছে। তাঁরা ওই বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান।
এ সময় মহিউদ্দিন জুয়েল নামের একজন এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি, অথচ আমাদের দুষ্কৃতকারী বলা হচ্ছে। আমরা কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
অবস্থান কর্মসূচিতে অনেক আমানতকারীকে হাতে চেক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, ব্যাংকে ঘুরেও তাঁরা টাকা তুলতে পারছেন না। ফলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অর্থসংকটে পড়ছেন।
কর্মসূচি শেষে আমানতকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে তিন দফা দাবিতে গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন। দাবিগুলো হলো—আমানত ফেরতের রোডম্যাপ ঘোষণা, মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।
আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের টাকায় ব্যাংকের কার্যক্রম চলে, কিন্তু প্রয়োজনে আমরা নিজেদের টাকা তুলতে পারছি না। আজ আমরা কয়েক হাজার, কাল এই সংখ্যা আরও বাড়বে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে যাওয়া আমানতকারীদের প্রতিনিধিদলের সদস্য আহমদ কবির বলেন, ‘দাবি পূরণ না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনা হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং প্রতিনিধিদের দাবি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ‘হেয়ার কাট’ প্রস্তাব বাতিল ও আমানত ফেরতের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন গ্রাহকেরা। এর আগে খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদে এসব ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করা হয়।