হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সেতুর অর্ধেক কাজেই মেয়াদ শেষ, দুর্ভোগ

ইউসুফ আরফাত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাঁচপুকুরিয়া-সিদ্ধাশ্রম সেতু। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। আজকের পত্রিকা

নির্ধারিত সময় পার হলেও শেষ হয়নি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাঁচপুকুরিয়া-সিদ্ধাশ্রম সেতুর কাজ। ৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দে নির্মাণাধীন ২৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো গার্ডার সংযোগ, ডেক স্ল্যাব, সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ বাকি। এক মাস ধরে কাজও বন্ধ রয়েছে।

ফলে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের অন্তত অর্ধলাখ মানুষকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে যাতায়াতের সময়, বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) অধীনে ২৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি। ৩০ মাস মেয়াদি (আড়াই বছর) প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ২০ জুলাই। কিন্তু কাজ হয়েছে অর্ধেক।

প্রকল্পটির কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্স। তাদের দাবি, কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় এক বছর পর চূড়ান্ত নকশা হাতে পাওয়ায় কাজ পিছিয়ে যায়। অথচ সাধারণভাবে কার্যাদেশ দেওয়ার আগে নকশা ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকার কথা। একইভাবে সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণও এখনো শেষ হয়নি, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব সৃষ্টি করেছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র বলছে, প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার ও পিয়ার ক্যাপ নির্মাণ শেষ হলেও এখনো গার্ডার সংযোগ, ডেক স্ল্যাব, স্টিলের কাজ, দুই পাশের সংযোগ সড়ক, নদী প্রতিরক্ষা ব্লক, বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জাসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মো. শাহিন বলেন, ‘অর্থসংকট প্রকল্পের মূল বাধা নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল নকশা। কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় এক বছর পর চূড়ান্ত নকশা হাতে আসে। ফলে দীর্ঘ সময় কাজ শুরু করা যায়নি। সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণও এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া পাহাড়ি ঢল ও বন্যাও বাধা ছিল। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থছাড়ের তুলনায় অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

এদিকে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে অস্থায়ী সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সুন্দরপুর, পূর্ব সুয়াবিল, পাঁচপুকুরিয়া, চাঁদেরঘোনা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে বিবিরহাট কিংবা নাজিরহাট যেতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে অতিরিক্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে। প্রতিজনকে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পের মূল কাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে হালদা নদীর ওপরের অংশ এবং দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

চিকিৎসার কথা বলে শহরে এনে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর: ৩ জাহাজ লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫

আদালতের আদেশ অমান্য, চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে রুল জারি

বিড়ালের বাচ্চা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা: আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: চমেকে আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের বাঁশখালী: ৮৯৪ কোটির প্রকল্পের পরও উপকূলে আতঙ্ক

সকালে নিখোঁজ, বিকেলে খালে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ

জমিতে পড়ে থাকা তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

রেললাইনে হাঁটছিলেন বৃদ্ধ, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু