সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এক দম্পতিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) এই আদেশ দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন রুপম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী। রায় ঘোষণাকালে সন্ধ্যা রাণী আদালতে উপস্থিত থাকলেও রুপম চৌধুরী ছিলেন পলাতক। পরে আদালতের আদেশে সন্ধ্যা রাণীকে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন জানান, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণে আদালতের বিচারক স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই উল্লিখিত সাজার আদেশ দিয়েছেন।
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উভয় আসামি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ২৩০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। একই সঙ্গে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪৯ হাজার ২৩০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তাঁরা আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে অবৈধভাবে অর্জন করার মাধ্যমে ভোগদখলে রাখেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী এলাকার বাসিন্দা দুই আসামির বিরুদ্ধে ইয়াবা কানেকশনের ওপর প্রথমে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। একপর্যায়ে দুজনের কাছে সম্পদ বিবরণী চায় দুদক। তাঁদের দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই করে উল্লিখিত অঙ্কের সম্পদ গোপন ও অবৈধভাবে অর্জন করার অভিযোগে মামলা করা হয়। আজ সেই মামলার রায়ে উভয় আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।