কঠোর লকডাউন অমান্য করায় চট্টগ্রামে ৮৭টি মামলার পাশাপাশি ২৪টি গাড়ি জব্দ করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ৩৭টি ও পুলিশ থেকে ৫০টি মামলা করা হয়। কিন্তু এ সময় কাউকে আটক করা হয়নি।
জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে নয় জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৭টি মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে অনেকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নগরীর চকবাজার ও বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালান ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা জান্নাত। এ সময় ৭টি মামলায় ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন তিনি। একই সঙ্গে খুলশী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন মুহাম্মদ ইনামুল হাসান। তিনি একটি মামলায় ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ছাড়া মো. উমর ফারুক কোতোয়ালি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৬টি মামলায় ১ হাজার ৬০০ টাকা, মো. মাসুদ রানা হালিশহর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪টি মামলায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
অপরদিকে, মো. জিল্লুর রহমান ৪টি মামলায় ১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। পাশাপাশি পতেঙ্গা এলাকাতেও তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। রেজওয়ানা আফরিন একটি মামলায় ১ হাজার টাকা, নুরজাহান আক্তার সাথী বন্দর ও ডবলমুরিং এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৯টি মামলা দায়ের করে ১ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। পাহাড়তলি ও আকবরশাহ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ফাহমিদা আফরোজ। তিনি ৭টি মামলায় ২ হাজার টাকা আদায় করেন। চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন প্লাবন কুমার বিশ্বাস।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক জানান, যারা বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়েছেন তাঁদের অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্দেশনার বাইরে যারা দোকান খোলা রেখেছেন তাঁদেরও অর্থদণ্ড করার পাশাপাশি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ জানান, আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় ২৪টি গাড়ি আটকসহ ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনো মাঠে পুলিশ অভিযানে আছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আটককৃত গাড়ির মধ্যে ৩টি প্রাইভেটকার, ২টি মাইক্রোবাস, ৮টি সিএনজি, ১টি টমটম, ৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য ৫টি যানবাহন রয়েছে।