খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মহসিনুল হক এসব কথা জানান।
মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, খালের দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে (ডিওয়াটারিং) কাজ করতে হয়। গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি জমে গিয়েছিল।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে হিজড়া খালের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। প্রবর্তক মোড়ে গত রাতে জমা হওয়া বুকসমান পানি খাল পরিষ্কার করার পর রাত দেড়টার মধ্যে নেমে যায়।
প্রকল্প পরিচালক জানান, পুরো শহরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ১৬টি কুইক রিঅ্যাকশন টিম গঠন করা হয়েছে। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে জলাবদ্ধ এলাকায় পৌঁছে নালা বা খাল পরিষ্কারের কাজ করবে।
এ ছাড়া বর্তমানে ২৯টি এক্সকাভেটর এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়ে বিভিন্ন খালের মাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির পথ পরিষ্কার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি এই মেগা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। ড্রেনেজ মডেলিং অনুযায়ী এই ৩৬টি খালের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পুরোপুরি জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। বাকি ২১টি খালের পরিষ্কারের কাজ বর্তমানে সিটি করপোরেশন করছে, যার জন্য তারা ৪৫ কোটি টাকার বাজেট পেয়েছে। এই ২১টি খালের জন্য ভবিষ্যতে আলাদা একটি সরকারি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘ মেয়াদে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর তদারকিতে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে অধিকাংশ খালের খনন ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এ প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।