জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এর আগেও কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছিল, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবাকে ব্যাহত করছে।
জানা গেছে, হাসপাতালটিতে কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সেটি অচল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্ধকারে ঢেকে যায়। এ সময় চিকিৎসকেরা নিজেদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে রোগীদের সেবা দেন। জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয় মোবাইলের আলোয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।
রোগী বদিউল আলম বলেন, ‘এখানে বিদ্যুৎ বড় সমস্যা। জেনারেটর নেই, আইপিএসও নষ্ট। এখন লোডশেডিং ভয়াবহ। বাধ্য হয়ে আসতে হয়, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’
কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিয়া ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সারা দিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়েছে। মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রোগীদের দেখভাল করতে হয়েছে।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।