চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ছাত্রদল এবং রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্রশিবির।
ছাত্রদলের মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল হয়ে এ এফ রহমান হলের গেট দিয়ে প্রবেশ করে আলাওল হলের সামনে দিয়ে ২ নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী মোড় হয়ে আলাওল হল, এ এফ রহমান হল ও নিরাপত্তা দপ্তর প্রদক্ষিণ করে আবার সোহরাওয়ার্দী মোড় হয়ে জিরো পয়েন্টে ফিরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ছাত্রশিবির।
মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ‘গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পাল্টা স্লোগানে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ‘গুপ্ত বলিস কাদেরকে? তুই ছিলি লন্ডনে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও,’ ‘বিচার বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ছাত্রদলের মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনসহ নেতা-কর্মীরা।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘রগকাটা সন্ত্রাসী কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে আমাদের এ কর্মসূচি। আমরা বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাই।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বৈষম্যমুক্ত হয়নি। বিভিন্ন রাজাকার-আলবদররা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে। তাদের দ্রুত অপসারণ করুন—না হয় ছাত্রদল তাদের প্রতিহত করবে।’
এদিকে মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন শাখা শিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, দপ্তর সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ, প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভূঞাসহ নেতা-কর্মীরা।
এতে শিবিরের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক হামলায় শুধু ছাত্র পরিচয়ে থাকা ক্যাডাররাই নয়, বরং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থকদেরও ভাড়া করে যুক্ত করা হয়েছে। আমরা আগস্টে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আদর্শ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলন করেছিলাম—যেখানে নিরাপত্তা, শিক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে “গুপ্ত” শব্দের অপব্যবহার করে আবারও ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। হামলার ঘটনায় দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আমরা আর ট্যাগিং-বুলিংয়ের রাজনীতি চাই না।’