চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগিয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে পোস্টারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আজ সোমবার (১১ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোস্টারে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ ও ‘আঁধারে ভয় পেয়ো না, আলো আছে আড়ালে; অন্ধকার পালিয়ে যাবে, তুমি উঠে দাঁড়ালে’—এমন লেখা দেখা যায়। পোস্টারের নিচের অংশে ছাত্রলীগের লোগোর পাশাপাশি সংগঠনটির সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের নাম ও ছবি সংযুক্ত ছিল।
এ ছাড়া পোস্টারে ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান’, ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। এ ছাড়া সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র নাসির উদ্দিনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, শাটলে আজকের ঘটনাটি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের অংশ। এর আগেও তারা একাধিক ছোট ছোট ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনার পরও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যেসব নেতা-কর্মীর একাডেমিক ও অন্যান্য শাস্তির আওতায় পড়ার কথা ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং এর ফলেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুনরায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন।
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো পোস্টারিং, কখনো শহীদ মিনারে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ানো, আবার কখনো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া কিংবা এক নম্বর গেটে মিছিল করার মতো ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি—অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে।’
এ বিষয়ে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। আমরা সচেতন আছি। যারা এটি করেছে, শনাক্ত করতে পারলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনে অবস্থানকালে এটি লাগানো সম্ভব নয়। সম্ভবত শাটল ট্রেন বটতলা স্টেশনে থাকাকালে পোস্টার লাগানো হয়েছে। ঠিক কখন এটি লাগানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।’