মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার করে চাচাকে বাবা সাজিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জেলে পাঠানো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
আজ রোববার তাঁকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের ইউএনও থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কামাল হোসেন গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ স্পেশাল জজকোর্টে হাজির হয়ে দুদকের মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। এ জন্য সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাঁকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু মামলার বাদী হয়ে মামলা করেন।
এজাহারে উল্লেখ বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে কামাল হোসেন তাঁর প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবিয়া খাতুনের পরিবর্তে নিজের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে মা-বাবা হিসেবে দেখান। এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি লাভ করেন।