চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পলি আক্তার (২২) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের চরদুঃখিয়া গ্রামে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা পলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পলি আক্তার ওই গ্রামের ওমানপ্রবাসী রাছেল আহমেদের স্ত্রী ও দক্ষিণ লড়াইরচর গ্রামের লোকমান দেওয়ানের মেয়ে। মৃত নারীর পরিবারের দাবি, যৌতুকের কারণে পলিকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিকভাবে রাছেল আহমেদের সঙ্গে বিয়ে হয় পলি আক্তারের। বিয়ের কয়েক মাস পর রাছেল ওমানে পাড়ি জমান। সম্প্রতি দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ দেখা দেয় তাঁদের মধ্যে। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাঝোতা বৈঠক হলেও মেয়ের সংসার টিকানোর স্বার্থে আইনি ব্যবস্থা নেননি পলি আক্তারের পরিবার। বুধবার রাতে পলি স্বামীর বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছেন বলে সংবাদ পান তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
পলি আক্তারের ভাই জাহিদ হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘আমার বোনের জামাই ওমানে থাকেন। সেখান থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে আবার ২ লাখ টাকা দাবি করে বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমরা মনে করছি, আমার বোনকে তার শাশুড়ি ও ননদ মিলে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছেন। এখন আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, পরিবারের চিৎকারে পলি আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে পলি আক্তারের মরদেহ তাঁর স্বামীর বসতঘরের আড়া থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’