বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম সাগরের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ইয়াবা সেবনের এক মিনিটের এই ভিডিও নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার মানুষ বিব্রত। জহুরুল ইসলাম উপজেলার ভুতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত, কাঁদের ওপর শার্ট রেখে একটি টিনশেড ঘরের বারান্দায় খাটের ওপর বসে মুঠোফোনে ফেসবুক দেখছেন। এ সময় তাঁর বাম হাতে চিকন পাইপের মতো একটি বস্তু ও ফয়েল পেপার এবং ডান হাতে একটি গ্যাসলাইটের আগুন জালিয়ে দিচ্ছেন। এই গ্যাসলাইটের আগুনের তাপে মুখে চিকন পাইপ চেপে ধরে ঠোঁট দিয়ে ধোঁয়া টানছেন। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে আরেক ব্যক্তি থাকলেও ওই ব্যক্তির চেহারা স্পষ্ট বোঝা যায় না।
তবে ভিডিওতে জহুরুল ইসলামকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এ ছাড়া জহুরুল ইসলামও বলেছেন, এই ভিডিও তাঁর। তবে তাঁর দাবি এক পক্ষ তাঁকে ব্ল্যাকমেল করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ ছিল। তবে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি ছিল না। এ অবস্থায় ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা জহুরুর ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, একটি পক্ষ তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি করা হয়েছে। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ধুনট উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, যুবদলে কোনো মাদকসেবীর জায়গা হবে না। ভিডিওটি নজরে পড়েছে। ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, যুবদল নেতার ভিডিওর বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।