বগুড়ার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে রাতে সংঘবদ্ধ চক্র কর্মচারীদের জিম্মি করে তেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে লিখিত জানিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি তারা।
পাম্পমালিক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে এসে পাম্পের কর্মচারীদের জিম্মি করে তেল নিয়ে যায়। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে কর্মচারীদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
বগুড়া শহরতলির মেহেরা পাম্পের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর রাতে ১০-১২টি মোটরসাইকেল আবার কখনো মাইক্রোবাসে ৭-৮ জন এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে তেল নিয়ে যায়। কেউ আবার জারিকেন ভর্তি করে তেল নিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের কাছে ফোন করলেও সময়মতো সহায়তা পাওয়া যায় না। ফলে উচ্ছৃঙ্খল লোকজন প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রলপাম্পে নিরাপত্তা জোরদারে ট্যাগ অফিসার দেওয়া হলেও তাঁদের ভূমিকা কার্যত রেজিস্টার পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে অভিযোগ করেছেন পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বগুড়ার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাহিদার ৪০ ভাগ তেল পাচ্ছি। গ্রাহকদের চাপ, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও হুমকি-ধমকিতে জেলার ৭২টি পেট্রলপাম্প মালিকেরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। তেল বিক্রির জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা তেল কোম্পানির সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আহ্বান করেছি। বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।’
এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ট্যাগ অফিসারদের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’