বরিশালের সরকারি গৌরনদী কলেজে আজ বুধবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেনি বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।
স্থানীয়রা, আহত ও পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মিয়ার সঙ্গে গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগের প্রভাবশালী সদস্য মো. আতিক মিয়ার বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই উভয়ের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে ৮ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন-গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগ নেতা আতিক মিয়ার ছোট ভাই জিহাদ মিয়া তাঁর সমর্থক সাব্বির হোসেন, প্রতিপক্ষ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরান মিয়ার সমর্থক ও ছাত্রলীগ কর্মী সাকিব হোসেন, মো. রিফাত, মোস্তফা হোসেন, আজিজুল, সাহাদুল ও হিমেল। গুরুতর আহত জিহাদ মিয়া ও সাব্বির হোসেনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগ নেতা আতিক মিয়ার ছোট ভাই ও কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী জিহাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা এসে প্রায়ই ছাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বখাটেপনা করে। যে কারণে কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইমরান মিয়ার সমর্থক বহিরাগত আজিজুল ও সাহাদুল কলেজে প্রবেশ করে বখাটেপনা দেখায়। এ নিয়ে আমি তাঁদের শাসিয়ে দেই। পরবর্তীতে ইমরান মিয়ার সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী মোস্তফা, আজিজুল, সাহাদুল ও হিমেলসহ ২০-২৫ জন লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় পিটিয়ে ও কুপিয়ে আমাকে এবং আমার সহযোগী সাব্বির হোসেনকে আহত করেছে।’
অপরদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মিয়ার সমর্থক ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য মো. মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে আমার সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী সাকিব হোসেন, মো. রিফাতসহ ৪-৫ জন কর্মী আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় গৌরনদী পৌর ছাত্রলীগ নেতা মো. আতিক মিয়ার ছোট ভাই জিহাদ মিয়া তাঁদের গালাগাল করলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিহাদ মিয়া সাকিব, রিফাতকে মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’