হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

বান্দরবানের থানচি: হামের পর ডায়রিয়ার প্রকোপ দুর্গম পাহাড়ে

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি  

চিকিৎসা নিচ্ছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত এক রোগী। ছবি: আজকের পত্রিকা

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাবের পর এবার বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোয় স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।

এর আগে গত এপ্রিলের শেষ দিকে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় দুর্গম এসব পাহাড় থেকে উপজেলা সদরে এসে চিকিৎসা নেওয়া বেশ কঠিন। এ কারণে অনেকেই উপজেলা সদরে এসে চিকিৎসা নিতে পারেনি। এরপর ওইসব দুর্গম পাহাড়ে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেই সময় ১০০-এর বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এবারও শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

ডায়রিয়ার এই পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে কথা হয় রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমার সঙ্গে। তিনি জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদা ম্রো পাড়ায় ৮ জন, অংহ্লা খুমী পাড়ায় ৬ জন, লাইথাং মেম্বার পাড়ায় ৬ জন, রেমাক্রী বাজারে ১০ জন, জাদি পাড়ায় ৫ জন, কলা পাড়ায় ৫ জন এবং তিন্দু ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিংথোয়াইঅং হেডম্যান পাড়ায় ১০ থেকে ১২ জন—সব মিলিয়ে ৫০ জন মানুষ এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে চিংথোয়াইঅং পাড়ার বাসিন্দা ও রেমাক্রী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খ্যাইম্রউ মারমা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তিনি আরও বলেন, রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রেমাক্রী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনার্ডিক্ট ত্রিপুরা বলেন, ৫০ জন মানুষ বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সেখানে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক মংসাচিং মারমা বলেন, রেমাক্রী বাজারের তিনটি ফার্মেসিতেই স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম লিটক্রে এলাকায় ৮৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে জরুরি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। আমি বর্তমানে কক্সবাজারে সরকারি কর্মসূচিতে আছি। গণমাধ্যমে খবর পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইনসহ মেডিকেল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁরা দ্রুত মেডিকেল টিম পাঠানো, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ে এবার ডায়রিয়ার থাবা, আক্রান্ত অর্ধশতাধিক

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বরইতলী থেকে ১ লাখ ইয়াবা জব্দ

দুর্গম পাহাড়ে ছড়িয়েছে হাম-রুবেলা, আক্রান্ত ৮৪ শিশু

বান্দরবানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ৫০ দোকান ও বসতঘর

নাইক্ষ্যংছড়িতে অসুস্থ মা বন্য হাতির মৃত্যু, শাবকের কান্নায় ভারী গ্রাম

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ তরুণের লাশ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারি গুলি বিনিময়, আহত ১

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝড়ের কবলে পড়ে রাবারশ্রমিকের মৃত্যু

রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন