সুন্দরবনের দস্যু দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবলে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছেন কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা। পৃথকভাবে দুটি অভিযানে এসব জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি একনলা বন্দুক ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আওতাধীন আন্ধারমানিক টোটা, কেওড়াতলা খাল ও শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর আগে দস্যু দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল এলাকা থেকে ১০ জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছিলেন। অন্যদিকে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী শিবসা এলাকা থেকে আরও ১১ জেলেকে অপহরণ করে তাঁদের কাছ থেকেও মুক্তিপণ দাবি করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচির খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কবল থেকে ১০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
একই দিন বিকেলে বড় দুদমুখ খালসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় দস্যুরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে যান।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচটি তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিম্মি থাকা আরও ১১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের বাড়ি খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায়। তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ থানায় মামলা দিয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।