সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে পড়ে সাত দিন শিকলবন্দী অবস্থায় জিম্মি থাকার পর সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জন জেলে বাড়ি ফিরেছেন।
জেলেরা জানান, ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে তাঁদের অপহরণ করে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। পরে তাঁদের পায়ে শিকল বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
অপহরণের তিন দিনের মাথায় প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক দস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময় করে জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাঁদের অন্য একটি স্থানে আটকে রাখে।
ফিরে আসা জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, প্রথমে জাহাঙ্গীর বাহিনী তাঁদের শিকলবন্দী করে রাখে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। পরে শরীফ বাহিনী তাঁদের নিজেদের কবজায় নিয়ে যায়। অবশেষে সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের পর শুক্রবার ভোরে তাঁদের নৌকায় তুলে দিয়ে ধানসাগর আড়য়াবের নদীর মোহনায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার হেঁটে তাঁরা নিজ বাড়িতে পৌঁছান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিম্মি অবস্থায় জাহাঙ্গীর বাহিনী তাঁদের মারধর করেছে।
ফিরে আসা অন্য জেলেরা হলেন ছগির (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), রুবেল (২৫) ও দেব চন্দ্র (২৫)।
এ বিষয়ে এক মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথমে প্রতি জেলের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জন প্রতি ৭০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর পর জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা বা অভিযোগ আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’