হোম > নারী

দিবসের আড়ালে চাপা পড়ে সহিংসতার সংখ্যা

ফিচার ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি

তার কোনো সাম্রাজ্য নেই, রাজপ্রাসাদ নেই। কখনো স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন বানানো, কখনো বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি, কখনো ইভ টিজিং, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা বন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কতা গড়ে তোলাতেই তার আগ্রহ বেশি। মেয়েটির নাম মীনা। আমরা জানি না মীনার বয়স কত, তার বাড়ি কোথায়। কোথায় সেই স্কুলটা, যেখানে জানালায় দাঁড়িয়ে মীনা লুকিয়ে লুকিয়ে নামতা শিখেছিল। মীনার দাদি বলেছিল, মাইয়া মানুষের এত লেখাপড়া করনের কী দরকার। কিন্তু মীনা একদিন নিজের পরিবারকে রাজি করিয়ে শুরু করেছিল স্কুলে যাওয়া। মীনা একাই স্কুলে যায়নি, কিংবা শুধু তার পরিবারকে রাজি করায়নি। সে মূলত সেসব মানুষকে স্কুলের গুরুত্ব বুঝিয়েছিল; যারা মনে করত, মেয়েদের লেখাপড়ার দরকার নেই।

১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল। এই এক দশককে ঘোষণা করা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার কন্যাশিশুদের দশক হিসেবে। এই উপলক্ষে ইউনিসেফ ধারাবাহিকভাবে এই মীনা কার্টুন নির্মাণ করে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছরের ২৪ সেপ্টেম্বরকে ‘মীনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এ দিবস মনে করিয়ে দেয়, শিশুরা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, তারা বর্তমানেরও নাগরিক।

৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। এ দেশে নারীদের বৈষম্য দূর করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। মীনা দিবস কিংবা জাতীয় কন্যাশিশু দিবস—দুটিই মনে করিয়ে দেয়, এ দেশের কন্যাশিশুদের প্রতি রাষ্ট্র ও পরিবারের দায়িত্বের কথা। ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এর হার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। ২২ থেকে ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীর ৫১ শতাংশের ১৮তম জন্মদিনের আগেই বিয়ে হয়ে যায়।

শুধু বাল্যবিবাহই কন্যাশিশুদের জন্য হুমকি নয়; তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, নিরাপত্তা—সবই নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব। তবে এখন বিভিন্ন সময়ে নানান নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটে চলেছে সমাজে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৯০১ কন্যাশিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। এদের বয়স শূন্য থেকে ১৮ পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এই মাসে ২৪৮ কন্যাশিশু নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। এদের ৭৮ জনকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০০ জন। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১১৭ কন্যাশিশুকে।

তবে এই সংখ্যাগুলো প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। পারিবারিক নির্যাতনের অনেক ঘটনার কথা আমাদের কারও সামনে আসে না। এই আট মাসে নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হওয়া কন্যাশিশুদের সংখ্যা আমাদের নাড়িয়ে দিলেও কতটা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

‘৫ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী দিতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান’

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ২৪তম

ড. রাজিয়া বানু, নারী অগ্রযাত্রায় উজ্জ্বল নক্ষত্র

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব নয়

ভুলে যাওয়া এক নারী মেরিনা নেমত

আফ্রিকার লৌহমানবী সিরলিফ

২ হাজার ৫৬৮ প্রার্থীর মধ্যে নারী ১০৯, উদ্বেগ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির

শরিয়তি ফারায়েজ অনুযায়ী মেয়ের সন্তান নানার সম্পত্তির সরাসরি ওয়ারিশ হয় না

নিরাপত্তাহীন নারী ও শিশু, সংখ্যা বাড়ছে নির্যাতিতের

শেক্‌সপিয়ার বিশেষজ্ঞ ভয়ংকর এক নারী ইয়েং থিরিথ