১৮৯৪ সালের ২৫ জুন। বোস্টনের দুই ধনী ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে এক অদ্ভুত বাজি ধরলেন—কোনো নারী একা সাইকেলে চড়ে পুরো পৃথিবী ঘুরে আসতে পারবে না। সে সময়কার রক্ষণশীল ভিক্টোরিয়ান সমাজের এই চ্যালেঞ্জ লুফে নেন ২৪ বছর বয়সী গৃহবধূ এবং তিন সন্তানের মা অ্যানি কোহেন কপচভস্কি।
নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়াই যেখানে ছিল দুরূহ বিষয়, সেখানে ৪২ পাউন্ড ওজনের একটি ভারী কলম্বিয়া সাইকেল নিয়ে একাই বিশ্বজয়ে বেরিয়ে পড়লেন অ্যানি। নিজের খরচ জোগাতে তিনি ‘লন্ডনডেরি লিথিয়া স্প্রিং ওয়াটার’ কোম্পানির কাছ থেকে ১০০ ডলারের বিনিময়ে তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাকার্ড নিজের সাইকেলে ঝুলিয়ে নেন। এর পর থেকে ইতিহাসে তাঁর নাম হয়ে যায় অ্যানি ‘লন্ডনডেরি’। অ্যানি নারীদের ভারী গাউন ছেড়ে পুরুষদের পোশাক পরেন। যাত্রাপথে তিনি নিজেকে একটি চলন্ত বিলবোর্ডে পরিণত করে, নিজের ছবি বিক্রি করে এবং বিভিন্ন শহরের দোকানে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে নিজের অর্থ উপার্জন করেন।
দীর্ঘ ১৫ মাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় অ্যানি একা একা আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার মিসর, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো পরিভ্রমণ করেন। অবশেষে ১৮৯৫ সালের অক্টোবরে সফলভাবে বোস্টনে ফিরে বাজি জিতে নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে পিটার জিউটলিন এই সত্য ঘটনা নিয়ে ‘স্পাইন’ নামে একটি উপন্যাস লেখেন।