বসন্ত আসছে। খেতে রংবেরঙের জারবেরা ফুল ফুটে দোল খাচ্ছে বাতাসে। সেই খেতের এক পাশ থেকে ফুল তুলছেন শুধু বসন্তে নয়, বারো মাস ফুল ফোটানোর কারিগর রেশমা খাতুন। এই ফুলের চাষ তাঁর সংসারে বসন্ত এনে দিয়েছে।
২০১০ সালে বিয়ের সময় স্বামী মো. নুর হোসেন দরজির কাজ করতেন। তখন শ্বশুরের জমিজমা না পাওয়ায় সংসারে ছিল অনটন। স্বামীর অনুপ্রেরণা, সহায়তা আর স্বল্প পুঁজির জোগানে ২০১২ সালে ১০ কাঠা জমিতে ফুলের চাষ শুরু করেন রেশমা। তখন তিনি চাষ করেছিলেন গ্লাডিওলাস ও গাঁদা ফুল। ফুল বিক্রির টাকায় দুই বিঘা জমি বন্ধক নেন। স্বামী মোটরসাইকেল কেনেন। এরপর করোনা ও আম্ফান ঝড়ে নিঃস্ব হয়ে যান।
একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে রেশমা একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফুল চাষ করে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সে সময়ে বাংলাদেশ পরিবেশ ও উন্নয়ন সমিতি (বিইডিএস) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জারবেরা ফুলের চারাসহ শেড তৈরির জন্য দেড় লাখ টাকার বিদেশি পলিথিন দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় রেশমাকে। জারবেরা ফুলের সেই শেড তাঁর পথচলা সহজ করে দিয়েছে অনেকটা। এখন রেশমার জারবেরা ফুলের শেডসহ গ্লাডিওলাস, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা এবং জিপসির চাষ রয়েছে। তিনি প্রতি মাসে অন্তত দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেন। বর্তমানে দুই সন্তান এবং স্বামীকে নিয়ে রেশমার সুখের সংসার।
রেশমার ঘরে এখন আর কোনে অভাব নেই। ফুল চাষের টাকা দিয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়া গ্রামে স্কুলপাড়ায় একতলা বাড়ি বানিয়েছেন তিনি। রেশমা জানান, প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফুলের দাম বেশি পাওয়া যায়। এই মৌসুমকে ঘিরে ফুল চাষে বিশেষ ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই এই চার মাস সামনে রেখে নিয়মিত ফুলখেত পরিচর্যা করেন।
যশোর ফুল উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আবদুর রহিম জানিয়েছেন, রেশমা খাতুন খুব পরিশ্রমী, উদ্যমী ও আত্মবিশ্বাসী। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ফুল সমিতি সার্বিক সহযোগিতা করেছে।