কেমন হয়, যদি মোটরবাইক চালানোর সময় একটি ভাসমান তিরচিহ্ন আপনাকে রাস্তার নির্দেশনা দেয়? কাল্পনিক মনে হলেও সুইজারল্যান্ডের ডিপটেক কোম্পানি ‘এজিস রাইডার’ এটিকে বাস্তব করার কথা জানিয়েছে। এ বছরের মধ্যে ইউরোপের বাজারে এমন একটি এআই-চালিত এআর হেলমেট আনছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রযুক্তির পেছনে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্টআপ লেটিনএআর।
ওমডিয়া রিসার্চের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী এআই চশমার বিক্রি ২০২৫ সালে একলাফে ৮৭ লাখ পিসে পৌঁছেছিল। এ বছর সংখ্যাটি দেড় কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। চশমা তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদাকে পুঁজি করে ২০১৬ সালে দুই বন্ধু জেহিউক কিম ও জিয়ংহুন হা প্রতিষ্ঠা করেন লেটিনএআর। প্রতিষ্ঠানটি চশমা বানায় না। তারা তৈরি করে অপটিক্যাল মডিউল বা লেন্স। লেন্স প্রযুক্তিগুলোর খামতি দূর করতে লেটিনএআর নিয়ে এসেছে তাদের নিজস্ব পেটেন্টের পিনটিএলটি প্রযুক্তি। প্রচলিত লেন্সগুলো আলোর অপচয় করায় ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। আবার সেগুলো দেখতে খুব ভারী ও অদ্ভুত দেখায়। পিনটিল্ট প্রযুক্তি শুধু চোখের ভেতরে প্রবেশ করা আলোটুকুকে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে চশমার ফ্রেমটি সাধারণ চশমার মতোই পাতলা ও হালকা থাকে। ছবি অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায় এবং ব্যাটারির চার্জও থাকে দীর্ঘক্ষণ।
জাপানের এনটিটি কোনক এবং ডায়না বুকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে লেটিনএআর মডিউল ব্যবহার করছে। স্মার্ট গ্লাসকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে পর্দার আড়ালে লেন্সের এই বিপ্লবই নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ