হোম > প্রযুক্তি

এআই: উন্মাদনা শেষে করপোরেট দুনিয়ায় খরচের হিসাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

গত তিন বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক তিনটি পর্যায় পার করেছে। প্রথম পর্যায়ে ছিল সন্দেহ, যেখানে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগের পরও এআই নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে উন্মাদনা, যেখানে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের ক্ষমতা দেখে করপোরেট বিশ্ব সর্বত্র এর ব্যবহারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর বর্তমানের তৃতীয় পর্যায়টি হলো উপলব্ধি বা হিসাব-নিকাশের, যেখানে কোম্পানিগুলো বুঝতে পারছে যে এআই নির্দিষ্ট কিছু কাজে অসাধারণ হলেও, এটিকে ঢালাওভাবে ব্যবহার করতে গেলে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

মার্কিন করপোরেট জগতে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এআইয়ের এই অসীম ক্ষমতার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা কি আদৌ যৌক্তিক?

আগে এআইয়ের সমালোচনা আসত মূলত বাইরের দুনিয়া, প্রযুক্তিবিরোধী মানুষ কিংবা শেয়ার বাজারের শর্ট-সেলারদের কাছ থেকে। কিন্তু এখন খোদ এআই খাতের ভেতরের বড় বড় কোম্পানিগুলোই এর কার্যকারিতা ও খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

উবার: মাত্র চার মাসের মধ্যে বার্ষিক বাজেট শেষ করে ফেলার পর উবার কর্মীদের এআই ব্যবহারের ওপর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, টোকেন ব্যবহারের সঙ্গে গ্রাহক সেবার মান বাড়ার কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক না থাকায় এই বিপুল খরচকে আর যৌক্তিক বলা যাচ্ছে না।

অ্যামাজন: প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা শুধু তালিকায় ওপরে থাকার জন্য অপ্রয়োজনীয় কাজে এআই ব্যবহার শুরু করলে অ্যামাজন তাদের অভ্যন্তরীণ এআই লিডারবোর্ড বন্ধ করে দেয়।

গিটহাব: লাখ লাখ ডেভেলপারের কোডিং সহকারী কোপাইলটকে টেকসই ব্যবসায়িক মডেলে রূপ দিতে এখন ব্যবহার-ভিত্তিক বিলিং ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে গিটহাব। আচমকা এই খরচের মুখোমুখি হয়ে ব্যবহারকারীরাও বেশ ধাক্কা খেয়েছেন।

বেইন জরিপ: ৯৫১টি বড় কোম্পানির ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, এআই থেকে যে পরিমাণ সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে লাভ তার চেয়ে অনেক কম। প্রতিবেদনটির সারকথা ছিল, প্রযুক্তি কাজ করেছে ঠিকই, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মূল্য আসেনি।

এমনকি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যানও এই সমালোচনাকে মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এআইয়ের পেছনে করা বিপুল খরচ শেষ পর্যন্ত রাজস্ব বা আয়ে প্রতিফলিত হবে কি না—এই প্রশ্নটি বর্তমানে যৌক্তিক।

শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা

এআই নিয়ে অতি-উচ্ছ্বাসের কারণে শেয়ার বাজারে কতটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, গত শুক্রবার (৫ জুন) ওয়াল স্ট্রিট তার একটি বড় প্রমাণ পেয়েছে।

সেদিন প্রযুক্তি খাতের শেয়ার সূচক ‘নাসডাক’ ৪ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাদের সবচেয়ে খারাপ দিন। অন্যদিকে, ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স ১০ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত ধসে পড়ে, যা গত ছয় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রডকম। তারা এআই খাতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধির কথা জানালেও দীর্ঘমেয়াদি আয় বাড়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হন, কারণ তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন এআইয়ের চাহিদা হয়তো রকেটের গতিতে বাড়তেই থাকবে।

আসল সত্য

এআই অবশ্যই কিছু কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তার জন্য এটি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা জানা জরুরি। আসল বুদ্‌বুদ বা ভুল ধারণাটি ছিল এই ভাবনার মধ্যে—যে কোনো কোম্পানিতে, সব কর্মীর ওপর এবং সব কাজের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে এআই প্রয়োগ করলেই তা নিজে থেকেই নিজের খরচ তুলে আনবে।

তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস

কর্মক্ষেত্রে এআই হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল মাইক্রোম্যানেজার’

বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে চালু হচ্ছে মেটার ‘এআই বিজনেস’, ব্যবহারে লাগবে ফি

ঢাকায় ২৩ জুন শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ফিনিক্স সামিট–২০২৬’

এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ৮০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করছে অ্যালফাবেট

আফ্রিকার ঐতিহ্য ‘অমর’ করে রাখতে চান এক নাইজেরিয়ান শিল্পী

মেটা নিয়ে আসছে সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান

ফোন চার্জে দিলেই গরম হওয়ার কারণ ও করণীয়

নিউ গ্লেন বিস্ফোরণে যে সংকটে ব্লু অরিজিন

১৬ বছর পূর্ণ না হলে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না মালয়েশিয়ায়

নতুন যুগান্তকারী চিপ আনল এনভিডিয়া, ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই চলবে এআই