হোম > প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ফেব্রুয়ারি

ফিচার ডেস্ক

শুধু ভাষা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং জীবপ্রযুক্তিতে এমন কিছু মৌলিক আবিষ্কার ও উন্নয়ন ঘটেছে, যেগুলো আধুনিক বিশ্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত আবিষ্কার

রমন ক্রিয়া

১৯২৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় পদার্থবিদ স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন কলকাতায় দক্ষিণ আফ্রিকান সোসাইটির সামনে রমন ইফেক্ট বা আলোর অস্থায়ী বিকিরণ প্রভাব আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

এর মূল বিষয় হলো, যখন আলো কোনো স্বচ্ছ পদার্থের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটে। এই মৌলিক আবিষ্কার করার জন্য তিনি ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রমন ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘রমন স্পেকট্রোস্কপি’ রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষত ক্যানসার শনাক্তকরণে, ফরেনসিক বিজ্ঞান এমনকি মঙ্গল গ্রহের অভিযানেও আজ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্বের কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস হিসেবে পালিত হয়।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট

১৯৫৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জ্যাক কিলবি টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসে কর্মরত অবস্থায় একটি একক অর্ধপরিবাহী পদার্থের ওপর ইলেকট্রনিক বর্তনী তৈরির পেটেন্ট নথি দাখিল করেন। এই আবিষ্কারের আগে ইলেকট্রনিক বর্তনীর বিভিন্ন উপাদান আলাদা আকারে থাকত বলে যন্ত্রপাতির আকার বড় হয়ে যেত। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট আধুনিক ইলেকট্রনিকসের ভিত্তি তৈরি করে এবং এর মাধ্যমে আমরা আজকের মাইক্রোপ্রসেসর, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের যুগ দেখতে পাচ্ছি।

প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার

১৯৪৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেনের ব্লেচলি পার্কে কোলোসাস নামের বিশ্বের প্রথম প্রোগ্রামেবল ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার সক্রিয় করা হয়। টমি ফ্লাওয়ার্সের ডিজাইন করা এই কম্পিউটার তৈরি করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির গোপন বার্তা কোড ভাঙার জন্য। এটি ছিল একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নতুন মৌলের আবিষ্কার

জার্মেনিয়াম

১৮৮৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, ক্লেমেন্স উইঙ্কলার একটি খনিজ পদার্থ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জার্মেনিয়াম (Ge) মৌলটি আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কার ছিল দিমিত্রি ইভানোভিচ মেন্দেলিয়েভের পর্যায় সারণির ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা প্রমাণের বড় উদাহরণ।

লরেনসিয়াম

১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে লরেনসিয়াম (Lr) মৌলটি আবিষ্কৃত হয় বার্কলে রেডিয়েশন ল্যাবে।

প্লুটোনিয়াম

১৯৪১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, গ্লেন সিবোর্গ ও তাঁর সহকর্মীরা সাইক্লোট্রন ব্যবহার করে প্লুটোনিয়াম (Pu) মৌলটি রাসায়নিকভাবে শনাক্ত করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যান্য মাইলফলক

নিউট্রনের আবিষ্কার

১৯৩২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন কণার অস্তিত্বের কথা ‘নেচার’ জার্নালে ঘোষণা করেন।

নাইলনের পেটেন্ট

১৯৩৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ওয়ালেস ক্যারোথার্স প্রথম বাণিজ্যিক সিনথেটিক ফাইবার নাইলনের পেটেন্ট নথি দাখিল করেন।

পোলারয়েড ক্যামেরা

নিউইয়র্ক সিটির অপটিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকার মিটিংয়ে ১৯৪৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ডোইন এইচ ল্যান্ড প্রথম পোলারয়েড ল্যান্ড ক্যামেরা প্রদর্শন করেন।

ট্যাক্সোলের পূর্ণ সংশ্লেষণ

ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে রবার্ট এ হোল্টন এবং তাঁর দল ১৯৯৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সোলের প্রথম সম্পূর্ণ সংশ্লেষণ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন। এটি প্রাকৃতিক উৎস থেকে সীমিত উৎপাদনের সমস্যা সমাধান করে ক্যানসার চিকিৎসায় বিপ্লব আনে।

ভাইরাস: সুপার মারণাস্ত্র হয়ে আবারও ফিরছে কি

টিকটক: তথ্য নিচ্ছে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই, বন্ধ করতে যা করবেন

হোয়াটসঅ্যাপ নিষিদ্ধ করল রাশিয়া

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস রোধে উন্নত এনক্রিপশন প্রযুক্তি আনছে গুগল

বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করল চ্যাটজিপিটি, না দেখলে সেবা কম

শ্রেণিকক্ষে এআই: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিশ্বজুড়ে উদ্যোগ

বহুল ব্যবহৃত ভিপিএন অ্যাপে নিরাপত্তা ঝুঁকি

এআই প্রশিক্ষণ: বিশ্বের অর্ধেক শ্রমশক্তি ভারতের ছোট শহর ও গ্রামে

আইপ্যাডের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

অপারেশন থিয়েটারে এআই—ভুল সার্জারির অভিযোগ বাড়ছে