নোবেলজয়ী লেখক ওলগা তোগারচুক জানিয়েছেন, তিনি লেখালেখির ক্ষেত্রে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পোল্যান্ডের এই নারী লেখক বিষয়টি স্বীকার করেন। এমনকি তিনি জানান, তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস লিখতেও তিনি এআই ব্যবহার করেছেন।
ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সাহিত্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম লিটারেরি হাব বা লিটহাব জানিয়েছে, সম্প্রতি পোলিশ ভাষায় নেওয়া ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তোগারচুক এই বিষয়টি স্বীকার করেন। সাক্ষাৎকারে তোগারচুক স্বীকার করেন, তিনি তাঁর সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ, লেখালেখিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করেন।
সম্প্রতি লেখক মাক্স সিপোভিজ পোলিশ সংবাদমাধ্যম ব্লুস্কাইয়ে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারটির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুবাদ করে তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তোগারচুক বলেন, ‘আমার সর্বশেষ উপন্যাস লেখার সময়...আমি এই উন্নত মডেলটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কয়েক দশক আগে কোনো নাচের আসরে আমার চরিত্ররা কী ধরনের গান শুনত। তখন এআই আমাকে কয়েকটি গানের নাম দেয়।’
তোগারচুক আরও বলেন, ‘আমি প্রায়ই যন্ত্রটিকে জিজ্ঞেস করি, ডার্লিং, এটাকে আমরা আরও সুন্দরভাবে কীভাবে এগিয়ে নিতে পারি? অর্থনীতি বা কঠিন তথ্যভিত্তিক বিষয়ে অ্যালগরিদমের বিভ্রম ও বহু ভুল সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু এটাও বলতে হবে, সাহিত্যিক কল্পকাহিনির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক অবিশ্বাস্য মাত্রার সুবিধা।’
এআই দিয়ে লেখার বিষয়ে সাক্ষাৎকারের একটি অংশ আবার পোলিশ ভাষা থেকে গুগল ট্রান্সলেটরের সহায়তায় অনুবাদ করা হয় ইংরেজিতে। সেখানে তোগারচুক বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, দীর্ঘ আখ্যান লেখার কাজে লেখকদের সম্পৃক্ততা কল্পনা করাই কঠিন। হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সহাবস্থানমূলক ভবিষ্যৎ ও সহযোগিতাই তাদের সাহায্য করবে। আশঙ্কার বিপরীতে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের লেখকরাই নিজেদের কাজের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সবচেয়ে দ্রুত ও ঘনিষ্ঠভাবে এআইয়ের মতো সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্ত হবে।’
নোবেলজয়ী এই লেখক আরও বলেন, ‘আমাদের সাহিত্যিক মন ও মস্তিষ্ক এক সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। এর ভিত্তি হলো বিস্তৃত, অত্যন্ত বিস্তৃত পারিপার্শ্বিক ও সংশ্লেষধর্মী সম্পর্ক স্থাপন। যা শিক্ষাবিদদের সংকীর্ণ, অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত সুড়ঙ্গধর্মী চিন্তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আমি নিজেই একটি ল্যাংগুয়েজ মডেলের সর্বোচ্চ উন্নত সংস্করণ কিনেছি এবং এটা দেখে গভীরভাবে বিস্মিত হই যে কী অসাধারণভাবে এটি আমার দিগন্তকে প্রসারিত করে এবং আমার সৃজনশীল চিন্তাকে আরও গভীর করে তোলে।’
তোগারচুক আরও দাবি করেন, তাঁর বর্তমান কাজটাই হবে শেষ কাজ। কারণ তাঁর বিশ্বাস, পাঠকেরা আর জটিল সাহিত্যকর্মে আগ্রহী নন। তিনি বলেন, পুরোনো সময়ের জন্য তাঁর আক্ষেপ আছে, কিন্তু তিনি যেন মেনে নিয়েছেন যে—সেই সময় চিরতরে চলে গেছে।