রোমাঞ্চকর ফাইনালে ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে উইম্বলডনের নতুন রানি হয়েছেন লিন্ডা নসকোভা। শনিবার সেন্টার কোর্টে চেক প্রজাতন্ত্রের এই দুই তারকার ফাইনালে যে পরিমাণ নাটকীয়তা ছড়াল, তা হয়তো কোনো হলিউড কেও হার মানাবে। পাঁচটি ম্যাচ পয়েন্ট নষ্ট হওয়ার পর তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নাও লুকাতে হয়েছে নসকোভাকে। কয়েক মিনিট আগেও যে ট্রফি প্রায় হাতে ধরা ছিল, সেটিই যেন ধীরে ধীরে ফসকে যাচ্ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই ফিরে লিখলেন অবিশ্বাস্য এক রূপকথা। শেষ পর্যন্ত স্বদেশি মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ গেমে হারিয়ে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের স্বাদ নিলেন তিনি।
২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের এই লড়াই জিতে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নারী খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন জয়ের কীর্তি গড়লেন নসকোভা। ২০১১ সালে ঠিক এই ২১ বছর বয়সেই নিজের প্রথম উইম্বলডন জিতেছিলেন পেত্রা কভিতোভা, যাঁকে দেখেই নসকোভার টেনিস র্যাকেট হাতে তুলে নেওয়া। নসকোভা যখন সেন্টার কোর্টের ঘাসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাস করছিলেন, তখন রয়্যাল বক্সে বসে তা নিজ চোখে দেখেছেন কভিতোভা।
এই জয়ের ফলে গত চার বছরে তৃতীয়বারের মতো উইম্বলডনের ‘ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ’ গেল কোনো চেক কন্যার হাতে; ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রুসোভা ও ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভার পর এবার ট্রফি জিতলেন নসকোভা।
অথচ ম্যাচের মাঝপথে যেভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, সেখান থেকে নসকোভার এই প্রত্যাবর্তন অবিশ্বাস্য। প্রথম সেট সহজেই ৬-২ ব্যবধানে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটে জয়ের একেবারেই দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তিনি। কিন্তু মুচোভার সার্ভিসে একে একে ৪টি ম্যাচ পয়েন্ট হাতছাড়া করেন। এরপর নিজের সার্ভে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ এলেও ডাবল ফল্ট ও ভুলের মহড়ায় পঞ্চম ম্যাচ পয়েন্টটি নষ্ট করে ব্রেক উপহার দেন মুচোভাকে।
গ্যালারির স্তব্ধতা আড়াল করতে দুই কানে আঙুল দিয়েও লাভ হয়নি, মুচোভা স্কোর ৫-৫ করার পর নসকোভা টোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না লুকাতে দেখা যায়। এরপর সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জিতে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরান দশম বাছাই মুচোভা।
নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়ার হতাশায় ভেঙে পড়া নসকোভা তৃতীয় সেটের আগে কোর্ট ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যান। আর সেই বিরতিই তাঁর মানসিকতায় জাদুর মতো কাজ করে। হতাশা থেকে উঠে এসে তৃতীয় সেটে শুরুতেই ব্রেক করেন মুচোভাকে। শেষ পর্যন্ত নিখুঁত টেনিস খেলে জয় নিশ্চিত করেই অবিশ্বাস্য এক ঘোর নিয়ে কোর্টের ঘাসের ওপর শুয়ে পড়েন তিনি।
উইম্বলডনের এবারের আসরে নসকোভার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তৃতীয় রাউন্ডে সোরানা কিসরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচাতে হয়েছিল তাঁকে। উইম্বলডনের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্টের শুরুতে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি, এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল কেবল ভেনাস উইলিয়ামস (২০০৫) ও সেরেনা উইলিয়ামসের (২০০৯)। ২০২৪ উইম্বলডনে নসকোভা অংশ নিয়েছিলেন মায়ের ক্যানসারে মৃত্যুর ঠিক পরপরই, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনার স্মৃতি। দুই বছর পর অল ইংল্যান্ড ক্লাবের চেনা ঘাসই এবার তাঁকে উপহার দিল জীবনের মধুরতম দিন।