বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র নয় দিন বাকি। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির বার্তা দিলেন দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। বাঁ হাতের একটি আঙুলে চিড় ধরার পর ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। তবে এই চোট বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলার পথে বাধা হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার কানসাস সিটিতে জাতীয় দলের প্রথম অনুশীলনের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ছবি পোস্ট করেন মার্তিনেস। ছবিতে তাঁকে বাঁ হাত ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তিনি পায়ের কাছে বল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তবে চোটের কারণে হাত ব্যবহার করতে পারছিলেন না।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘অনুশীলনে প্রথম দিন দারুণ উৎসাহ ছিল। সবকিছু করতে না পারায় খারাপ লাগছে, তবে বন্ধুদের সঙ্গে থাকতে পেরে এবং দেশের জন্য একসঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত।’
লিওনেল স্কালোনির অধীনে প্রথম দিনের অনুশীলনে চোট ও শারীরিক সমস্যার কারণে কয়েকজন খেলোয়াড়কে সীমিত মাত্রায় অনুশীলন করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে মার্তিনেসও ছিলেন। ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে বাঁ হাতের একটি আঙুলে চোট পান। এই চোট নিয়েই ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলাকে জেতানোর পথে দারুণ কিছু সেভ দেন তিনি।
এরপর থেকেই মার্তিনেসের আঘাতপ্রাপ্ত অংশ স্থির অবস্থায় রাখা হয়েছে। তিনি বিশেষায়িত পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাঁকে পাওয়া যাবে। এমনকি ১৬ জুন আর্জেন্টিনা সময় রাত ১০টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেও মার্তিনেসের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে ৬ ও ৯ জুন যথাক্রমে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে তাঁকে খেলানো হবে না।
বিশ্বকাপের উদ্দেশে আর্জেন্টিনার দলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও মার্তিনেসকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেদিন লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে কানসাসে যাওয়ার বিমানে বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষকের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডারের শেয়ার করা সেই ছবিতে মার্তিনেসকে হাতে সাদা ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা অনেকের নজর কাড়ে। তবে সেটি ছিল তাঁর চলমান পুনর্বাসন প্রক্রিয়ারই অংশ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো—চোট থাকলেও মার্তিনেসের বিশ্বকাপ মিশন আপাতত ঝুঁকির মুখে নয়।