ঢাকা যেন ইট পাথরের শহর। সবুজ গাছ পালা এই শহর থেকে হারিয়েছে অনেক আগেই। শিশুদের খেলাধুলা করার যা খোলা জায়গা ছিল, সে সবও দখল হয়ে গেছে। শিশুদের হাঁটাচলার জন্য খোলা পার্ক কিংবা খেলাধুলার জন্য মাঠ তেমন নেই বললেই চলে। অথচ এই ঢাকাতেই একটা সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল খেলার মাঠ। দখল হয়ে যাওয়া এই সব মাঠ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আজ লালবাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্মশানঘাট এলাকার মাঠ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আমিনুল। পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমকে মাঠ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি উচ্চতর কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের তিনজন মন্ত্রী রয়েছেন। আমাদের সচিব পর্যায়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সচিব রয়েছেন। ঢাকা মহানগরীতে এরই মধ্যে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।’ এরপরই প্রতিমন্ত্রী বললেন আসল কথা, ‘খুব শিগগিরই, আগামী ১০ তারিখের পর কোনো এক সময়ে আমি ও মাননীয় মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির প্রয়োজনীয় মাঠগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করব। যেসব মাঠ দখলে রয়েছে, সেগুলো দখলমুক্ত করা এবং যেগুলোর সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। যেহেতু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে ধাপে ধাপে সব কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।’
দখলকৃত মাঠ পুনরুদ্ধারে স্থানীয় মানুষ এবং সংবাদমাধ্যমেরও সহযোগিতা চাইলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘সংবাদমাধ্যম কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহায়তাও আমরা প্রত্যাশা করি। মূলত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি এলাকার সাধারণ মানুষ যদি আমাদের বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংসদ সদস্যদের এসব বিষয়ে অবহিত করেন, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। আপনারা যেকোনো মাধ্যমে আমাদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন। আমরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও দুই সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে ঢাকা মহানগরীর মাঠগুলো দখলমুক্ত, সংস্কার এবং সবার জন্য উন্মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। এ কাজগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে চাই।’
অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাঠ দখল করে রাখেন। সেখানে খেলাধুলা করতে দেওয়া হয় না শিশু কিশোরদের। এ নিয়েও কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, কিছু এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন কারণে খেলার মাঠগুলো অনেক সময় বন্ধ রাখা হয়। আমরা এসব মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চাই। এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো মাঠে অযথা বাধা না থাকে। এলাকার শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-যুবক—সকলেই যেন নিয়মের মধ্যে থেকে মাঠ ব্যবহার করে খেলাধুলার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।’