দুর্দান্ত নয়টি বছর শেষে লিভারপুল ছাড়ছেন মোহাম্মদ সালাহ। চলতি মৌসুম শেষেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হবে এই মিশরীয় ফরোয়ার্ডের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় সালাহ নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিভারপুল অধ্যায় শেষে কোন ক্লাবে যোগ দেবেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি সালাহ। তবে গত কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছে, সৌদি প্রো লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। তারকা ফুটবলারকে পেতে মোটা অঙ্কের প্রস্তাবও নাকি দেওয়া হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সালাহর পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণায় সালাহ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, দিনটি চলেই এল। এটাই আমার বিদায়ের প্রথম পর্ব। এই মৌসুমের শেষে আমি লিভারপুল ছাড়ছি। এটা বলে শুরু করতে চাই যে, কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে, এই ক্লাব, এই শহর, এখানকার মানুষেরা আমার জীবনের এতটা গভীরে মিশে যাবে। লিভারপুল শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, একটি আবেগ, একটি ইতিহাস, একটি চেতনা। যারা এই ক্লাবের অংশ নয়, তাদেরকে ভাষায় বোঝাতে পারব না এসব। আমরা জয় উদযাপন করেছি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রফিগুলো জিতেছি এবং আমাদের জীবনের কঠিনতম সময়ে আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি।’
বিদায়ী বার্তায় ভক্তদের উদ্দেশে সালাহ বলেন, ‘ভক্তদের নিয়ে বলার মতো যথেষ্ট ভাষা আমার জানা নেই। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে আপনারা আমাকে যে সমর্থন দিয়েছেন এবং কঠিনতম সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন...এসব এমন কিছু, যা আমি কখনো ভুলব না এবং সব সময় আমার সঙ্গে বয়ে বেড়াব। ছেড়ে যাওয়া কখনোই সহজ নয়। তোমরা আমাকে আমার জীবনের সেরা সময়টা দিয়েছো, আমি সব সময় তোমাদের একজন হয়েই থাকব। আমার এবং আমার পরিবারের কাছে সব সময় আমার ঘর হয়ে থাকবে এই ক্লাব। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
রোমা ছেড়ে ২০১৭ সালে লিভারপুলে পাড়ি জমান সালাহ। শুরু থেকেই মার্সিসাইডের ক্লাবটির অবিচ্ছেদ্দ অংশ হয়ে উঠেন। লিভারপুলের জার্সিতে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ, এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ডের শিরোপা জিতেছেন সালাহ। এই সময়টাতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও অনন্য এই তারকা ফুটবলার। এখন পর্যন্ত ৪৩৫ ম্যাচে ২৫৫ বার পেয়েছেন জালের দেখা। লিভারপুলের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। লিগের মৌসুম সেরা ফুটবলার, গোল্ডেন বুট ও সেরা প্লেমেকারের পুরস্কার জিতেছেন সালাহ।
মাস কয়েক আগে প্রধান কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয় সালাহর। বিষয়টি নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। মাঝে বিতর্কের ঝড় থামলেও লিভারপুল অধ্যায়টা আর বড় করলেন না সালাহ।