টরন্টোতে ম্যাচ শেষে লুকা মদরিচ হাততালি দিচ্ছেন। তবে তাঁর এই হাততালির কারণ তো জয়ের নয়, বিদায়ের। হাসিমুখে করতালি দিলেও বিশ্বকাপ থেকে দ্রুত বিদায়ের বেদনা কি এত সহজে লুকানো যায়। কখনো মুখ ঢেকেছেন। কোনো রকমে যে চোখের পানি আটকাতে চাইছেন, সেটা তো স্পষ্ট।
পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ বত্রিশে শুধু ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ই হয়নি। মদরিচেরও বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে যাওয়ার ক্ষতে এবার প্রলেপ লাগানোর সম্ভাবনা থাকলেও সেই অপূর্ণতা থেকেই গেল। টরন্টোতে ম্যাচ শেষে মদরিচকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও। সাংবাদিকদের ক্রোয়াট কোচ বলেন, ‘এটাই সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। এভাবেই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ায় খারাপ লাগছে।’
চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ বা তার বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি মদরিচ গড়েছেন কদিন আগেই। রোনালদো, লিওনেল মেসি এবং কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়ার পর ডাবল সেঞ্চুরি করা ফুটবলার হলেন মদরিচ। আজ শেষ বত্রিশের ম্যাচটি ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে তাঁর (মদরিচ) ২০২তম ম্যাচ। ২৯ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ৩২ গোলে।
শুধু ২৯ গোল ও ৩২ অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান নয়, মদরিচের ইমপ্যাক্ট অন্য রকম। দক্ষতার সঙ্গে মাঝমাঠ সামলাতে পারেন দেখে ‘মিডফিল্ড জেনারেল’ উপাধি পেয়েছেন। সেই মদরিচ আজ চোখের পানি আটকানোর চেষ্টা করেও পারেননি। ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি ফুটবলারকে নিয়ে দালিচ বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে। নিজের সামর্থ্য ও দৃঢ়তার অসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।’
রিয়াল মাদ্রিদকে এক সময় রোনালদো-মদরিচ জুটি নিয়মিত শিরোপা এনে দিয়েছেন।ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে থাকার মতো অসংখ্যা স্মৃতি তাঁরা তৈরি করেছেন। আজ পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হারের পর মদরিচ দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন রোনালদোর সঙ্গে। কারণ, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আর কখনো তো তাঁদের দেখা হচ্ছে না। দুই তারকার (রোনালদো-মদরিচ) ম্যাচ শেষে কথা বলার ঘটনা অনেকের নজর কেড়েছে। মদরিচকে নিয়ে রোনালদোও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেসও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মদরিচকে। তাঁর (মার্তিনেস) মতে মদরিচ লাখ লাখ শিশুর অনুপ্রেরণা। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে পর্তুগাল কোচ বলেন, ‘সে লাখো শিশুকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার উদাহরণ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বল পায়ে নিয়ে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এমন খেলোয়াড় খুব কমই দেখা যায়। সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মদরিচ তারই এক অসাধারণ উদাহরণ। সে এখনো তরুণ ফুটবলারদের মতোই খেলে।’
রোনালদোও আজ কেঁদেছেন। তবে সেটা প্রয়াত দিয়োগো জোতার স্মরণে। গত বছরের ৩ জুলাই মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় জোতা চলে যান না ফেরার দেশে। আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর জোতার পর্তুগালের ২১ নম্বর জার্সি পরেছেন। পুরো দলই জোতাকে সম্মাননা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শিরোপার ভান্ডার আপাতত শূন্য। এর আগে ২০২৩ নেশনস লিগেও রানার্সআপ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। আর সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোকে হারিয়ে তৃতীয় হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল ক্রোয়াটরা।