উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
বার্সেলোনা না ইন্টার মিলান—সেমিফাইনালের বাধা উতরে কে উঠবে ফাইনালে। বাজির দরে বার্সেলোনা ফেবারিট। উইলিয়াম হিল কিংবা বেটএমজিএম—দুই বাজিকর প্রতিষ্ঠানে বাজির দরে ইন্টারের চেয়ে ঢের এগিয়ে বার্সেলোনা (বার্সেলোনার পক্ষে ৫/৮, ইন্টারের ১৭/৪)। কাগজে-কলমে ফেবারিট কাতালানরা। কিন্তু সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ তাদের খেলতে হবে ইন্টার মিলানের মাঠ স্যানসিরোয়, যেখানে টানা ১৫ ম্যাচ অপরাজিত স্বাগতিকেরা।
পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, আশির (১৯৮০) দশকের পর এটিই ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কোনো দলের ঘরের মাঠে অজেয় থাকার দীর্ঘতম রেকর্ড। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আজ এই ‘স্যান সিরো দুর্গ’ই ইন্টার মিলানের বড় প্রেরণা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর যে দুর্গে ১৫ ম্যাচের ১৩টিতে জিতেছে ইন্টার, ড্র ৩টিতে।
এই দুর্গ জয়ের জন্য যেমন আক্রমণভাগ হওয়ার দরকার, বার্সেলোনার আক্রমণভাগ ঠিক তেমন। দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রাফিনিয়ার নামের পাশে ৩১ গোল ও ২৫ অ্যাসিস্ট। আর প্রথম লেগে ইয়ামালের খেলা ছিল প্লে-স্টেশনের মতো। যা চান, বল দিয়ে সেটা করাতে পারেন তিনি। আজকের ম্যাচের আগে বার্সার জন্য সুখবর হলো, চোট কাটিয়ে উঠেছেন দলের আরেক ফর্মে তারা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কি। এবারের লা লিগায় যিনি সবচেয়ে বেশি ২৫ এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে ৪০ গোল করেছেন। গত ১৯ এপ্রিল সেলতা ভিগোর বিপক্ষে বার্সার ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন লেভা। সেই চোটের কারণে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে খেলা হয়নি পোলিশ এই স্ট্রাইকারের। তাঁকে পাওয়ায় আজ আরও শাণিত দেখা যেতে পারে বার্সার আক্রমণভাগকে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রের জয়ী বার্সেলোনার লক্ষ্য এখন লিগ জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়।
প্রথম লেগে বার্সেলোনা ৩ গোল দিলেও তাদের হজম করতে হয়েছিল ৩টি। আর ঘরের মাঠে ইন্টার আরও উজ্জীবিত হয়ে খেলবে, এমন আশা ইন্টার মিলান কোচ সিমোনে ইনজাগির। কারণ, এটা তাঁদের ‘ফাইনাল’। ইনজাগির ভাষায়, ‘আমরা (প্রথম লেগে) দারুণ একটি ম্যাচ দেখেছি। জানতাম যে সেমিফাইনাল কঠিন হবে। প্রথম লেগে আমরা জিততেও পারতাম। আমাদের বদলি খেলোয়াড়দের ইতিবাচক ছাপ খুব ভালো লেগেছে। সমর্থকেরা জানেন, কঠিন সময়ে আমরা সেরাটা দিয়েছি এবং জানি মঙ্গলবারের ম্যাচ আমাদের জন্য একটি ফাইনাল।’
যে ‘ফাইনাল’ জিততে শুধু গোল আটকালে হবে না, গোল করতে হবে ইন্টার মিলানকে। এখানেই নিজেদের আশা দেখছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক, ‘ইন্টার শুধু রক্ষণাত্মক খেলে পার পাবে না, তাদের গোলের চেষ্টা করতে হবে। এটা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল, যেখানে খেলছে ইউরোপের সেরা চারটি দল। আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেদের ধরনে খেলে থাকি এবং জানি আমরা কী করতে পারি। আমাদের সামনে রয়েছে ৯০ মিনিট। আশা করি, ফাইনালে যেতে সেটা যথেষ্ট হবে।’