নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে ওঠার পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে মরক্কো। নিজেদের অপ্রতিরোধ্য মনে করছেন দলটির প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওহাবি। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে মরক্কো আরও অনেক দূর এগোতে পারবে বলেই বিশ্বাস তাঁর।
মন্তেরে স্টেডিয়ামে প্রায় হারতে বসা ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কো। ৭২ মিনিটে গোল হজম করা দলটি পিছিয়ে থেকে নির্ধারিত সময় শেষ করে। যোগ করা সময়ে নেদারল্যান্ডসের জাল কাঁপিয়ে সমতা ফেরায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। পিছিয়ে থাকলেও ম্যাচে দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল মরক্কোর কাছে। টাইব্রেকারে যেন সেটারই প্রতিফলন পেয়েছে তারা।
২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছে মরক্কো। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে খেলার কীর্তি অর্জন করে তারা। দলটির বদলে যাওয়া মানসিকতার ফলেই সেটা সম্ভব হয়েছিল বলে মনে করেন ওহাবি, ‘কাতার বিশ্বকাপ মরক্কো দলের মানসিকতা বদলে দিয়েছে, এবং এ বিষয়ে কথা বলার মতো অবস্থানে আমি আছি। মরক্কোর খেলোয়াড়রা এখন নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখে, সমর্থকরাও আমাদের ওপর বিশ্বাস করে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের কাছে উচ্চ প্রত্যাশা রাখে, কারণ তারা জানে আমরা কতদূর যেতে পারি।’
শেষ ষোলোতে মরক্কোর প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠতে পারলে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স। তবে আপাতত কানাডা ম্যাচের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ ওহাবির। প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখার মতো ভুল করতে চান না তিনি। ওহাবি বলেন, ‘আমরা জানি এটা এক ম্যাচ করে এগোনোর বিষয়। অনেকেই ভাবছে মরক্কোর জন্য ম্যাচটা সহজ হবে, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। কানাডা আমাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।’
খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এবার ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস ওহাবির, ‘আমাদের নিজেদের বলতে হবে—কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা যদি আমাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারি, তাহলে আমরা অপ্রতিরোধ্য।’
আত্মতৃষ্টিতে না ভুগে মাটিতে পা রাখছেন ওহাবি, ‘কোনো দলই অজেয় নয়। যদি আমরা ভুল করি, তাহলে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই আমাদের হাতে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহার করে যতদূর যাওয়া সম্ভব, যেতে হবে। এটাই আমরা খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখতে চাই।’