ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি কী ভাবছেন, তা তিনিই জানেন; তবে সাধারণ ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বাস, নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলবে ব্রাজিল। নেইমারও জিইয়ে রেখেছেন দলে ডাক পাওয়ার আশা।
আরেকটি বিশ্বকাপ যখন আসন্ন, তখন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দুঃস্মৃতি এখনো তাড়িয়ে ফিরছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে। আর সেই দুঃস্মৃতি তাঁর কাছে নিজের ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত’ থাকার মতো। কোন সে দুঃস্মৃতি? কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হার। টাইব্রেকার পর্বে পঞ্চম পেনাল্টিটি নেওয়ার কথা ছিল নেইমারের। কিন্তু তাঁর দুই সতীর্থ পেনাল্টি মিস করায় এবং টানা ক্রোয়েশিয়া টানা চারটি শটেই সফল হওয়ায় নেইমারের পেনাল্টি নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি আর। এক ইউটিউব ভিডিওতে সান্তোস সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার সময় নেইমার বলেন, ‘জীবনে আমি সব সময় পঞ্চম পেনাল্টিটি নিয়েছি। পঞ্চমটি সবচেয়ে কঠিন, তবে অনেক সময় সেটি নেওয়ার সুযোগ নাও আসতে পারে।’
নেইমার বললেন সেই ঘটনা তাঁর মনে কতখানি ক্ষতের জন্ম দিয়েছে তা। ম্যাচ শেষে হোটেলে ফিরে মনে হয়েছিল পৃথিবী যেন শেষ হয়ে গেছে। চারপাশের পরিবেশ ছিল নিস্তব্ধ, সবাই গম্ভীর—কেউ কিছু বলছে না। নেইমারের ভাষায়, ‘মনে হচ্ছিল আমি নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আছি। ছোট একটা ঘরে বসে আছি, আর একে একে সবাই আসছে—পরিবার, স্বজন... সবার চোখ লাল, কেউ কথা বলছে না।’
সেই দুঃস্মৃতি হয়তো আজীবনই পোড়াবে নেইমারকে। তবে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭৯ গোল করা নেইমার যদি এবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান, তবে সেই যন্ত্রণার ক্ষতে উপশমের প্রলেপ খোঁজার চেষ্টা করবেন নিজেকে নিংড়ে দিয়ে।