ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হবেন জিনেদিন জিদান—গত কয়েক বছরে এই কথা শোনা গেছে বেশ কয়েকবার। অবশেষে সেটাই সত্যি হচ্ছে। ফরাসিদের দায়িত্ব নিতে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন জিদান। প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা প্যারিসিয়ান।
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ জানিয়েছে, জিদান যুগ শুরু হলে তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায় কি না—তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে স্পন্সরদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ২০১২ সালে ফ্রান্সের প্রধান কোচের পদে বসেন দিদিয়ের দেশম। তাঁর অধীনে ২০১৮ বিশ্বকাপ ও ২০২১ নেশনস লিগ জিতেছে ইউরোপের শীর্ষ দলটি। দেশমের সঙ্গে এফএফএফের চুক্তি আছে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এরপর আর ফ্রান্সের ডাগআউটে বসবেন না, স্পষ্টভাবেই তা জানিয়েছেন দেশম। বিশ্বকাপের পরই নতুন কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন।
দেশমের বিকল্প হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় বেশ কয়েকজনকে রেখেছে এফএফএফ। তবে বাকিদের চেয়ে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার জিদান এগিয়ে আছেন বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। যদিও এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
জিদানের সম্ভাব্য আগমনকে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে দেখছে ফ্রান্স। সাবেক ফুটবলার যোগ দিলে দলের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও ইমেজ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বছরে প্রায় ৩০ লাখ ইউরো (বোনাস ছাড়া) পারিশ্রমিক পান দেশম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিদানের জন্য এর চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দের চিন্তা করছে এফএফএফ।
কোচ হিসেবে জিদানের সাফল্যের পাল্লা বেশ ভারী। দুই মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে বসেছিলেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। তাঁর অধীনে তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে মাদ্রিদের ক্লাবটি। এ ছাড়া লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে রিয়াল। ২০২১ সালে স্প্যানিশ ক্লাবটির দায়িত্ব ছাড়েন জিদান।
এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। ১১ জুন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয়। যেখানে ‘আই’ গ্রুপে পড়েছে ফ্রান্স। এই গ্রুপে দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গী সেনেগাল, নরওয়ে এবং আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে উঠে আসা একটি দল।