দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে মাদারীপুরকে সমতায় ফেরালেন রিফাদ ব্যাপারী। মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। গ্যালারিতে থাকা স্বাগতিক সমর্থকেরা এতক্ষণ ফাটিয়ে যাচ্ছিলেন গলা। তাঁদের চুপ করিয়ে মাদারীপুরের ফুটবলারদের উদ্যাপন বলে দিচ্ছিল, এ যেন ফুটবলের চিরচেনা কোনো দ্বৈরথ।
না এমন কিছু নয়, এ শুধু আন্তজেলা ফুটবলের একটি মুহূর্ত। তিন বছর পর খুলেছে যার দুয়ার। তারুণ্যের উৎসবের ব্যানারে ১৮ কোটি টাকা বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাফুফে আয়োজন করছে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে মাদারীপুরকে ২-১ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলা।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও। এমন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় দলের পাইপলাইনে বাড়তি মজুত দেখতে পাচ্ছেন তিনি, ‘আমরা একদিকে নজর রাখতে চাচ্ছি না। আন্তজেলা ফুটবলের মাধ্যমে জেলার লিগগুলো অনেক শক্তিশালী হবে। দিন শেষে আমাদের ঘরোয়া লিগ শক্তিশালী হবে। জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা ভালো একটা পাইপলাইন নিশ্চয়ই পাব।’
গত কয়েক বছরে ঘরোয়া ফুটবলে মুন্সিগঞ্জ অন্যতম পরিচিত ভেন্যু। লিগের খেলায় খুব একটা দর্শক দেখা না, কিন্তু গতকাল গ্যালারি ছিল পরিপূর্ণ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৩ মিনিটে প্রান্ত বর্মনের গোলে এগিয়ে যায় মুন্সিগঞ্জ। ৮২ মিনিটে রিফাদের গোলে ম্যাচে ফিরে আসে মাদারীপুর। স্বাগতিকদের রুখেই দিচ্ছিল তারা। কিন্তু নাটকীয় ম্যাচের সমাপ্তি টানেন শ্যামল ব্যাপারী। স্পটকিক থেকে তাঁর গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মুন্সিগঞ্জ।
জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দুই ধাপ হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। এতে ৬৪ দল থেকে কমে হবে ৩২, এরপর শেষ ১৬। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল শেষে আগামী নভেম্বরে জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। সেখানে বিশেষ অতিথি থাকবেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।