যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে চড়ার আগে মারাকানায় সমর্থকদের সামনে পানামাকে ছিন্নভিন্ন করলেও বিশ্বকাপের আগে যে ধারাবাহিকতা দরকার, সাম্প্রতিক সময়ে তা ছিল না ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে। এর ছাপ দলটির র্যাঙ্কিংয়ে; অবস্থান ছয় নম্বরে। ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ফেবারিট হিসেবেও ফুটবল পণ্ডিতদের তালিকার অগ্রভাগে নেই ব্রাজিল। অপ্টার সুপারকম্পিউটারও বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের পরে রেখেছে ব্রাজিলকে।
তবে ব্রাজিলের এই ‘ফেবারিট’ না হওয়াটা দলটির ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য মাথাব্যথার কোনো কারণ নয়। উল্টো বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রেখে আনচেলত্তি বললেন—এবারের বিশ্বকাপে কেউই ফেবারিট নয়।
স্থানীয় সময় আজ সকালে নিউজার্সিতে অবতরণ করে ব্রাজিল ফুটবল দল। ব্রাজিল ফেবারিট না হলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লুকাস পাকেতাদের নিয়ে আশাবাদী কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে পা রেখে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মুখোমুখি হয়েছিলেন। স্বভাবতই উঠে এল কমন প্রশ্ন—ব্রাজিল দলকে নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? আনচেলত্তির উত্তর, ‘আমি খুশি, উচ্ছ্বসিত এবং ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত। নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ এরপরই বললেন আসল কথাটা, এই বিশ্বকাপে কোনো একক ফেবারিট নেই। অনেক শক্তিশালী দল আছে। ব্রাজিলও অন্য সবার সঙ্গে সমানতালে লড়াই করবে। আনচেলত্তির এই কথায় যেমন ছিল সাবধানতার ছাপ, তেমনি ছিল আত্মবিশ্বাসেরও।
বিশ্বকাপের আগে এবারই প্রথমবারের মতো পুরো ২৬ সদস্যের স্কোয়াডকে একসঙ্গে পেলেন আনচেলত্তি। গত শনিবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের কারণে দলে যোগ দিতে দেরি হয়েছিল মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির। গতকাল রাতে তাঁরা দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এখন পূর্ণশক্তির ব্রাজিলকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন আনচেলত্তি।
আজ সকালে নিউজার্সিতে পা রেখে বিকেলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম অনুশীলনে নামার কথা সেলেসাওদের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে মিসরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচকে সামনে রেখে দলকে ঝালিয়ে নেওয়ার এটিই হবে আনচেলত্তির প্রথম সুযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ব্রাজিল অনুশীলন করবে কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং গ্রাউন্ডে, যা সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে আধুনিক এই অনুশীলন কেন্দ্রেই নিজেদের প্রস্তুতির শেষ ধাপ সম্পন্ন করবে দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল মানেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে এবার আনচেলত্তির নেতৃত্বে দলটি নতুন এক যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ কোচ, তারকাখচিত স্কোয়াড ও বিশ্বজয়ের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে আবারও বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেলেসাওরা। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শুরু হওয়া এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে বহু প্রতীক্ষিত আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফির কাছে নিয়ে যেতে পারে কি না।
গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ মরক্কো। ১৩ জুনের সেই ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর প্রথম পর্বে তাদের খেলতে হবে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও।