লিওনেল স্কালোনিকে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সফলতম কোচ বললেও হয়তো ভুল বলা হবে না। যাঁর অধীনে কাতার বিশ্বকাপের পাশাপাশি মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপাও জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে যেহেতু তাঁর চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, তাতে করে স্কালোনির উত্তরসূরি নিয়ে চলছে আলোচনা।
এ বছরের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর চুক্তি নবায়নের কথা শোনা গেলেও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে স্কালোনিকে ছাড়া যেন কিছুই বোঝেন না এএফএ প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তাপিয়া বলেন, ‘আমরা সবাই চাই সে থাকুক। আমাদের আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে। আমার পরিকল্পনা এ, বি এবং সি—সবই স্কালোনি।’
স্কালোনির অধীনে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কাছাকাছি গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। নিউজার্সিতে গত ১৯ জুলাই স্পেনকে হারালেই ব্রাজিল, ইতালির পর আর্জেন্টিনাও শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়ত। কিন্তু ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় সেটা আর সম্ভব হয়নি। এমনকি দেশে ফেরার পর জন্মস্থানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন স্কালোনি। তাপিয়ার সঙ্গে এএফএ প্রধান সাক্ষাৎও করেছিলেন একবার।
স্কালোনির মানসিক অবস্থা অনুধাবন করতে পারছেন তাপিয়া। আর্জেন্টিনার কোচকে ছদ্মনাম ‘গ্রিঙ্গো’ বলে সম্বোধন করে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে এএফএ প্রধান বলেন, ‘আমি গ্রিঙ্গোকে (স্কালোনিকে) খুবই ভালোবাসি। সে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। প্রত্যেকেরই শোক বা মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে।’
২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন স্কালোনি। দীর্ঘ এই আট বছরে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে ২৮ বছর পর মেজর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা ফুরোয় আকাশী-নীলদের। সেই ধারাবাহিকতায় জিতেছেন ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা। লিওনেল মেসি-আনহেল দি মারিয়া-রদ্রিগো দি পল-এমিলিয়ানো মার্তিনেসরা ছিলেন এসব শিরোপাজয়ী দলের সদস্য।
যে স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকেরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছিল, তাঁকেই চান তাপিয়া। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে এএফএ প্রধান বলেন, ‘সম্ভবত আমার সবচেয়ে বড় সফলতা ছিল জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সঠিক মানুষটিকে বেছে নেওয়া। এই সময়ে মানুষ একটি দলের সঙ্গে নিজেদের অংশ মনে করেছে। এই আর্জেন্টিনা দল যা করেছে, এমন আনন্দ দেশের মানুষ আগে কখনো পায়নি।’