বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে দ্বিতীয় মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল ইকুয়েডর। সেই ধাক্কা সামলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে ২০ বছর পর আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের নয়, দেশের মানুষের বলে মন্তব্য করেছেন ইকুয়েডরের আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাচেসে।
আজ ভোরে নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে হওয়া ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে শুরুতেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে সাত মিনিটের মধ্যেই নিলসন আঙ্গুলো ইকুয়েডরকে ম্যাচে ফেরান। এরপর ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত করে ইকুয়েডর।
এই জয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ বত্রিশে ওঠার কৃতিত্ব অর্জন করল ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলেছিল তারা।
বাঁচা-মরার ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার পর ডাগআউটে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেকাচেসে। পরে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এর কী অর্থ, তা বড় বিষয় নয়। এই সাফল্য ইকুয়েডরের সকল জনগণের জন্য। খেলোয়াড়েরা তাদের নকআউট পর্বের এই টিকিট এনে দিয়েছে। এটি তাদের উদ্যাপন করতে দিন এবং উপভোগ করতে দিন।’
এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে না পারা ইকুয়েডর জ্বলে উঠল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বার, যখন প্রথমে গোল হজম করেও জয় পেয়েছে দলটি। এর আগে ২০১৪ সালের আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েছিল তারা।
নকআউটে উঠার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের নায়ক গঞ্জালো প্লাতা বলেন, ‘ম্যাচটি ভীষণ উত্তেজনাকর ছিল। আমরা জানি, এখানে ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার জার্মানি। এটি খুবই কঠিন ম্যাচ ছিল এবং আমরা যে দুটি সুযোগ পেয়েছিলাম, তা কাজে লাগাতে পেরেছি। আগের দুই ম্যাচে আমরা সুযোগ পেয়েও বল জালে জড়াতে পারিনি। সৌভাগ্যবশত, দলের আত্মবিশ্বাস অটুট ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি বদলে দিতে পেরেছি।’
সমর্থকদের প্রশংসাও করে প্লাতা বলেন, ‘আমরা সব জায়গার স্টেডিয়াম পূর্ণ করেছি। সমর্থকেরা প্রতিটি স্টেডিয়ামে আমাদের ঘরের মাঠের অনুভূতি দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি এটা (এই জয়) তাদেরই প্রাপ্য। এখন, আমরা সাফল্যের জন্য আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে পরের রাউন্ডে যাব।’