হোম > খেলা > ফুটবল

এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেল মেক্সিকো

ক্রীড়া ডেস্ক    

প্রথম গোলের পর কিনিয়োনেসের উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি

অপেক্ষার প্রহর শেষে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথমার্ধেই নিজেদের শক্তিমত্তার দারুণ এক প্রদর্শনী তুলে ধরেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ৪৫ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে ‘এল ত্রি’রা।

ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারিভর্তি হাজারো স্বাগতিক সমর্থকের গগনবিদারী ‘ওলে’ ধ্বনিতে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মেক্সিকো দল। শুরুতেই ‘হাই প্রেসিং’ কৌশল বেছে নিয়ে প্রোটিয়াদের নিজেদের অর্ধে চেপে ধরে তারা। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেসের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। তবে স্বাগতিকদের এই মুহুর্মুহু আক্রমণের তোপে খুব বেশি সময় নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।

৯ মিনিটের মাথায় মেক্সিকোর সেই হাই প্রেসিংয়েরই সুফল মেলে। মেক্সিকান মিডফিল্ডার লিরার প্রবল চাপের মুখে নিজেদের বক্সের কাছে বড় ধরনের ভুল করে বসেন দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়েরা। গোলরক্ষক উইলিয়ামসের কাছ থেকে আসা বল সিতোলে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে লিরা ছুটে গিয়ে চ্যালেঞ্জ জানান। বল পেয়ে যান সুযোগ সন্ধানী কিনিয়োনেস। বক্সের ভেতর ঢুকে দারুণ দক্ষতায় ও ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষকের দুই পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসান কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত এই মেক্সিকান উইঙ্গার। সঙ্গে নিজের নামটা গেঁথে নেন ইতিহাসের পাতায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে গ্যালারিতে বিয়ার হাতে ‘সিয়েলিতো লিন্দো’ গানে মেতে ওঠেন মেক্সিকান সমর্থকেরা।

এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর আক্রমণের মুখে খেই হারিয়ে কিছুটা শারীরিক ফুটবলের আশ্রয় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ১৬ মিনিটে মেক্সিকোর আলভারো ফিদালগোকে কড়া ট্যাকল করে বসেন তেবোহো মোকোয়েনা, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের প্রথম হলুদ কার্ড এনে দেয়। পরবর্তীতে ফাউল করে মেক্সিকোর গুতিরেসও হলুদ কার্ডের খাতায় নাম লেখান।

মেক্সিকোর আক্রমণের ধার কিছুটা কমে এলে মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুদলই বেশ কিছু আক্রমণ শাণায়। ৩৫ মিনিটে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে কিনিয়োনেসের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বল পেয়েও শট নিতে দেরি করে সুযোগ নষ্ট করেন মেক্সিকোর আলভারাদো। ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে এমবোকাজির ভাসানো ক্রসে লাফিয়ে উঠে মাথা ছুঁইয়েছিলেন প্রোটিয়া ফরোয়ার্ড লাইল ফস্টার, কিন্তু বলটি জালের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ ৫ মিনিটে খেলার গতি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা মন্থর হয়ে আসে। ৪০ মিনিটের দিকে মনে হচ্ছিল মেক্সিকো হয়তো এক গোলের স্বস্তির লিড নিয়েই বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পরের দুই মিনিটেই আজতেকা স্টেডিয়ামে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। ৪১ মিনিটে আলভারাদো ও রেইয়েসের দারুণ বোঝাপড়ায় বল পান হিমেনেস। সেন্টার-ব্যাকদের ধোঁকা দিয়ে দারুণ এক দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সতীর্থের ক্রস থেকে বল পেয়ে জালে জড়ানোর চেষ্টা করলেও তাঁর শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক উইলিয়ামস।

তবে সবচেয়ে বড় আক্ষেপের মুহূর্তটি আসে ৪২ মিনিটে। বক্সের ভেতর অরক্ষিত একটি বল পেয়ে জোরালো শট নেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিনিয়োনেস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে নিজের দ্বিতীয় গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন তিনি। শেষ পর্যন্ত কিনিয়োনেসের ওই এক গোলের স্বস্তি নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে মেক্সিকো।

রেকর্ড তিন লাল কার্ডের ম্যাচে মেক্সিকোর জয়ে শুরু বিশ্বকাপ

৩২ বছর পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড

এক প্রবাসীর পা থেকে এল বিশ্বকাপের প্রথম গোল

অবশেষে বালের্দির বদলি ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের উদ্বোধন: ‘দাই দাই’ গানের তালে ফুটবলপ্রেমীদের নাচালেন শাকিরা

বিশ্বকাপে সাকিবের ‘পল্টি’

বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে স্টেডিয়ামের আশপাশে বিক্ষোভ

ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে কারফিউ জারি

বিশ্বকাপে পেলের ৬৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড কি আজ ভাঙছে

যুদ্ধের ছবি নিয়ে ফিফার আপত্তি, জার্সি বদলাতে বাধ্য হলো হাইতি