লিওনেল মেসির জাদুকরি গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। ফ্লোরিডার মায়ামি স্টেডিয়ামের ম্যাচটি মূলত রূপ নিয়েছে আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণ বনাম আফ্রিকান দলটির জমাট রক্ষণের লড়াইয়ে।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অবশ্য দুই দলেই ছিল মাইলফলকের ছোঁয়া। কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার ডাগআউটে এটি লিওনেল স্কালোনির শততম ম্যাচ। আর মাঠের নেতা লিওনেল মেসি খেলতে নেমেছেন নিজের ৩০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। কেপ ভার্দেও ইতিহাস গড়েছে; ১৯৫০ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সী (গড় বয়স ৩১ বছর ১৯৭ দিন) একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা।
ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেশ ভালোভাবেই বোতলবন্দী করে রেখেছিল কেপ ভার্দে। প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটে প্রথম সুযোগটি তৈরি করেছিল তারাই, তবে মেন্ডেসের নেওয়া শট সহজেই লুফে নেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস। এর পর আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিলেও গোলমুখ খুলতে পারছিল না। ১৫ মিনিটে মেসির শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায় এবং ১৮তম মিনিটে তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিকটি সরাসরি জমা হয় কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার গ্লাভসে। ২৫ মিনিটের পানি পানের বিরতি পর্যন্ত বেশ স্বস্তিতেই ছিল আফ্রিকান দলটি।
তবে ম্যাচের ২৯ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের বাড়ানো চমৎকার এক পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। এর পর গোলপোস্ট থেকে মাত্র সাত গজ দূর থেকে চোখের পলকে নেওয়া এক জোরাল শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এককভাবে সর্বোচ্চ ১২টি গোলে সরাসরি অবদান (৬টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট) রাখার অনন্য রেকর্ড গড়লেন মেসি, যা ছাড়িয়ে গেছে পেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ২০ ও চলতি আসরে সপ্তম গোল।
গোল খেয়ে অবশ্য দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ৩২ ও ৩৮ মিনিটে দূরপাল্লার শট ও ক্রসের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে ৪২ মিনিটে জোভানে ক্যাব্রাল বাম প্রান্ত দিয়ে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে পড়লেও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় তা নসাৎ হয়ে যায়। শেষের দিকে কেপ ভার্দেকে কিছুটা ক্লান্ত দেখালেও আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোর কথা চিন্তা করে ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয় এবং বল পজিশন ধরে রেখে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে।