১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ । যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল । ‘বিশ্বকাপের দল’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে ঘানা
ঘানা দলকে নিয়ে কিছু বলতে গেলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ২০১০ বিশ্বকাপ। ভেসে ওঠে উরুগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আসামোয়া জিয়ান, কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংদের কান্নাভেজা বিদায়। নক আউটের সেই ম্যাচে যদি গোললাইন থেকে হাত দিয়ে বল না ফেরাতেন লুইস সুয়ারেজ, তাহলে তো আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবেই ঘানা উঠে যেত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে!
সুয়ারেজের সে হ্যান্ডবলের পর ঘানা পেনাল্টি পেয়েছিল বটে, কিন্তু স্পট কিক থেকে জিয়ানের শট লাগে ক্রসবারে। পরে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ঘানা। সেবারের পর আরও দুটি বিশ্বকাপ খেলেছে ব্ল্যাক স্টাররা। কিন্তু ২০১০-এর স্মৃতি পেছনে ফেলে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। এবার কি পারবে তারা?
আফ্রিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ‘আই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। ১০ ম্যাচের মাত্র ১টিতেই হারে ঘানা, ১টিতে ড্র, বাকি ৮ ম্যাচেই জেতে তারা। তরুণ প্রতিভা এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাই দলটির মূল শক্তি। তাদের খেলায় যেমন আছে গতি, তেমনি আছে শারীরিক শক্তির মিশেলও। গতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে উঠে আসায় অভ্যস্ত ঘানা। দেশটির বেশ কজন খেলোয়াড় ইউরোপীয় বিভিন্ন লিগে খেলে থাকেন। সেটার ইতিবাচক ছাপও পড়েছে দলটির খেলায়; তারা এখন আরও বেশি ট্যাকটিক্যাল ও আরও সুসংগঠিত। তবে কখনো কখনো মাঠে ডিফেন্সিভ স্থিরতা দেখা যায় দলটিতে। বড় ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখাও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে এই দলের আরও একটা দুর্বলতা হতে পারে কোচের পরিবর্তন। বিশ্বকাপ শুরুর মাসদুয়েক আগে প্রধান কোচ অটো আদ্দোকে বরখাস্ত করে ঘানার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সবশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচে জার্মানির কাছে হারের পর বিদায় দেওয়া হয় তাঁকে। জার্মানদের বিপক্ষে লড়াই করে হারলেও এর আগের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল তারা। মাঠে দলের পারফরম্যান্স ধারাবাহিক না হওয়ার কারণেই কোপ পড়ে আদ্দোর ওপর। ঘানার ফুটবলের নীতিনির্ধারকদের কোচের ওপর থেকে আস্থা উঠে গিয়েছিল অস্ট্রিয়ার কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়ার পর। এরপর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও হেরে গেলে কর্মকর্তারা কোচ বদলের সিদ্ধান্ত একরকম নিয়েই ফেলেছিলেন। তাই জার্মানির কাছে লড়াই করে ঘানা ২-১ ব্যবধানে হারলেও বিদায় নিতে হয় আদ্দোকে। তাঁর জায়গায় কোচ হিসেবে এসেছেন কার্লোস কুইরোজ। পর্তুগিজ এই কোচের অধীনেই বিশ্বকাপ খেলবে ঘানা।
বাংলাদেশ সময় ১৮ জুন পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ঘানা। গ্রুপ পর্বে এরপর ২৩ ও ২৭ জুন ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। পরিকল্পনা ও দলগত সমন্বয় এবারও নকআউট পর্বে খেলার প্রাথমিক লক্ষ্য ঘানার। আর নকআউটে উঠলে আফ্রিকার শক্তি হিসেবেই মেলে ধরতে চাইবে তারা।
কোচ: কার্লোস কুইরোজ
বিশ্বকাপের মাস দুয়েক আগে কোচ অটো আদ্দোকে বরখাস্ত করে ঘানা দায়িত্ব দিয়েছে পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজকে। ৭৩ বছর বয়সী কুইরোজ অবশ্য বিশ্বকাপের নতুন নন। ২০১০ সালে পর্তুগাল এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে ইরানের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর। নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট কৌশলগত পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে, ঘানার কোচ হিসেবে আদর্শের চেয়ে অভিযোজন ক্ষমতা এবং ফলাফলের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন কুইরোজ। ঘানার কোচ হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছেন, ‘আধুনিক ফুটবলে রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক কোচ বলে কিছু নেই। ঘানা জাতীয় দল আমার কাছ থেকে সর্বনিম্ন যা আশা করে, তা হলো জয়। আর আমি একজন বিজয়ী কোচ।’
তারকা: মোহামেদ কুদুস
ঘানার আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে তৈরি করেছেন নিজেকে। বাছাইপর্বে কমোরোসোর বিপক্ষে যে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে ঘানা। সে ম্যাচের একমাত্র গোলটিও ছিল মোহামেদ কুদুসের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল টটেনহাম হটস্পারে খেলা কুদুস গোল তো করেনই। সতীর্থদের জন্য গোলের উৎসও তৈরি করেন। প্রতিপক্ষের অর্ধে তাঁর সৃজনশীলতা যে কোনো দলের রক্ষণকেই বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারে। ছোট জায়গায় দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারেন; আছে অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতাও। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেললেও দলের প্রয়োজনে সেন্ট্রাল মিডফিল্ড বা ফরোয়ার্ড হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
ঘানার ইতিহাস
অংশগ্রহণ: ষষ্ঠবার
প্রথম অংশগ্রহণ: ২০০৬
সেরা সাফল্য: কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১০)