বয়স ৩৯। কিন্তু মাঠে নামলে মনে হয় সময় যেন থমকে আছে। ইউতো নাগাতোমো আবার বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। পঞ্চমবারের মতো। এশিয়ার ইতিহাসে আর কেউ এতবার বিশ্বকাপ খেলেননি।
স্কোয়াড ঘোষণার দিন নিজের নামটা দেখে কাঁদলেন। লুকালেন না। মানুষটা কখনো কিছু লুকান না— না আনন্দ, না ভালোবাসা, না আবেগ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। জাপান সেবার উঠেছিল শেষ ষোলোয়। সেই টুর্নামেন্টের পরই ডাক পেলেন ইন্টার মিলান থেকে। সাত বছর ইতালিয়ান ক্লাবে থেকে খেললেন দুই শতাধিক ম্যাচ। গ্যালাতাসারায় গেলেন, মার্শেইতে গেলেন। তারপর ২০২১ সালে ঘরে ফিরলেন— এফসি টোকিওতে।
পুরো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটা হয়তো কাতারে। ২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারানোর পর ক্যামেরার সামনে চিৎকার করে উঠলেন — ‘ব্রাভো!’ সেই একটা শব্দ, একটা মুহূর্ত, ছড়িয়ে পড়ল পুরো পৃথিবীতে।
নিজেকে তিনি বলে থাকেন ‘এয়ার পিউরিফায়ার’। এর কারণও আছে ড্রেসিংরুমে ভারী কোনো পরিবেশের আগমন ঘটলেই নিমিষে তা দূর করে দিতে পারেন। ১৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে যে মানুষটা ড্রেসিং রুমে বসেন, তাঁর উপস্থিতিই দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণার।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের একটি বিশেষ সুবাস আছে, যা আমি টের পাই। যদি বুঝতে পারি যে দলের পরিবেশ কিছুটা থমথমে বা বাসি হয়ে গেছে, তবে আমি সেই বাতাস পরিষ্কার করতে পারি। আমি কিছুটা এয়ার পিউরিফায়ার (বাতাস পরিশোধনকারী) যন্ত্রের মতো ভূমিকা পালন করতে পারি।’
জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু চান নাগাতোমো যেন সেই আবেগ ধরে রাখেন, পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দেরও শেখান কীভাবে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তিনি বলেন, ‘সে তার পঞ্চম বিশ্বকাপে যাচ্ছে, তাই আগের চার টুর্নামেন্টের সাফল্য ও খামতি সম্পর্কে সে সব জানে । আমি চাই খেলোয়াড়েরা শান্ত থাকুক এবং নিজেদের মেলে ধরুক, তবে বিশ্বকাপের চাপ কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার হং মিয়ং-বো ও সৌদি আরবের সামি আল-জাবেরের মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে নাগাতোমো এখন এশিয়ার একমাত্র পাঁচবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়। জাপানের এই দলে তিনিই একমাত্র যিনি দেশের লিগে খেলছেন।
এবার অবশ্য বেশি মাঠে নামার সুযোগ নাও পেতে পারেন। বছরের শুরুতে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় এই সেন্টারব্যাকের। গত বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে মাত্র দুটো ম্যাচ খেলেছেন। ইন্টার মিলানের সেই ঝড়ের গতি এখন আর নেই, সেটা তিনি নিজেও জানেন।
তবু নাগাতোমো থামেননি। থামার পাত্রও নন তিনি। জাপান দল এখন আর সেই ২০১০ সালের দল নয়। তখন মাত্র চারজন খেলোয়াড় বিদেশে খেলতেন, এবার দলের প্রায় সবাই খেলছে ইউরোপের বড় লিগে। সেই শক্তি দেখেই কোচ মোরিয়াসু বলছেন, জাপান এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে। নাগাতোমোও একমত, ‘মন থেকে বিশ্বাস করি।’
পঞ্চম বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যা কিছু শিখেছি তা দলের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই যাতে আমরা শিরোপা জিততে পারি। গতবার আমি অত্যন্ত আবেগ ও উদ্দীপনা নিয়ে খেলেছিলাম, তবে এবার আমার ভেতরের জেদ ও চেতনা আরও তীব্র। আশা করি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য সবাই প্রস্তুত।’